বরিশাল অফিস
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৩ ২০:০৪ পিএম
আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৩ ২০:২৩ পিএম
বরিশালের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের মামুন মিয়া নামে এক সাব-ডিলারের বাড়ি থেকে টিসিবির পণ্য উদ্ধারের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাতে সরকারি পণ্য গ্রাহকদের না দিয়ে মজুদ ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযানে ১২৭ জনের পণ্য উদ্ধারের পর তাকে আটক করা হয়।
শনিবার এ ঘটনায় টিসিবির ডিলার হুমায়ন কবির ও সাব-ডিলার মামুনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই ওয়ার্ডের সাইফুল ইসলাম শাহিন নামে এক ব্যক্তি। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এ মামলার আসামি হুমায়ুন কবির হলেন কাশিপুর বাজারের টিসিবির ডিলার ও মেসার্স চৌধুরী স্টোরের প্রোপাইটর এবং তার সহযোগী মামুন মিয়া হলেন নগরীর কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোড এলাকার বাসিন্দা ও সাব-ডিলার।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক মো. লোকমান হোসেন জানান, টিসিবির পণ্য স্বল্প আয়ের মানুষের মাঝে বিতরণ না করে মজুদের অভিযোগে সাব-ডিলার মামুনের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বাড়ির রান্নাঘর, শোবার কক্ষসহ বিভিন্ন কক্ষ থেকে ১২৭ জনকে বিতরণযোগ্য তেল, চিনি, মসুর ডাল, খেজুর ও ছোলা বুট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে আটক করা হয়। দুপুরে ওই ঘটনায় শাহিন নামের এক ব্যক্তি সরকারি পণ্য আত্মসাতের অভিযোগে তাদের নামে থানায় জনস্বার্থে মামলা করেন। এ ঘটনায় প্রধান ডিলার হুমায়ুন কবির পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।
টিসিবির সহকারী পরিচালক শতদল সরকার বলেন, সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ না করে পণ্য মজুদ করা পয়েন্টে নতুন করে তালাবদ্ধ করে সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ হোসেনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, হুমায়ুন কবিরের টিসিবির ডিলার পয়েন্টে মোট সুবিধাভোগী ৬৮৮ জন। অ্যাপস মোতাবেক ৬২১ জন সুবিধাভোগীকে মালামাল সরবরাহ করেছেন তিনি। সেই হিসেবে ডিলার পয়েন্টে টিসিবির ১৩৪ লিটার সয়াবিন তেল, ১৩৪ কেজি ডাল, ৬৭ কেজি ছোলা, ৬৭ কেজি চিনি থাকার কথা। কিন্তু সেখানে ২৪৬ লিটার সয়াবিন তেল, ২২৬ কেজি ডাল, ১২৯ কেজি ছোলা, ১০০ কেজি চিনি পাওয়া যায়। এ ছাড়া তার এক আত্মীয়ের বাসায় ৭ লিটার সয়াবিন তেল, ৪ কেজি চিনি পাওয়া যায়। এগুলো স্থানীয় কাউন্সিলরের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার থেকে নগরীতে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়। ওইদিন বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে অনেকেই পণ্য না পেয়ে ফেরত আসে। অনেক মানুষ পণ্য ছাড়া ফেরত আসায় রাত ১২টার দিকে মামুনের বাড়ি ঘেরাও করেন তারা। পরে পুলিশ, টিসিবি ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা মামুনের বাসা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্যসহ মামুনকে আটক করে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, ’আমি বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে কার্ড নিয়ে পণ্য তুলতে গেলে সাব-ডিলার মামুন শেষ বলে জানান। আমার মতো আরও বেশ কয়েকজন পণ্য না পেয়ে ফিরে আসি। অথচ আমাদের পণ্য না দিয়ে বাজারে বিক্রির জন্য ডিলারের বাড়িতে তা মজুদ রেখেছেন।’
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, ২৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে অভিযোগ আসে এক টিসিবির ডিলার ঠিকভাবে পণ্য বিক্রি করছেন না। পরে তার হেফাজত থেকে ১২৭ জনের জন্য নির্ধারিত পণ্য উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে।
টিসিবির ডিলার হুমায়ুন কবির বলেন, ওই পণ্য আত্মসাৎ কিংবা কালোবাজারে বিক্রির জন্য আনা হয়েছিল বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। দোকানের ধারণক্ষমতা কম থাকায় ওই পণ্য পাশের মামুনের বাসায় রাখা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় বিক্রয়কেন্দ্রও বন্ধ ছিল। বরিবার সকালে তা ডিলার পয়েন্টে নিয়ে বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষ আমাদের হেয় করার জন্য এই ঘটনা ঘটিয়েছে।