নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৩ ১৯:৪৩ পিএম
আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৩ ২০:১৪ পিএম
প্রবা ফটো
প্রবাসীকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় নোয়াখালী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) দুই সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) দুপুরে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম।
প্রত্যাহার হওয়া দুই ডিবি সদস্য হলেন, উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফুল ইসলাম ও কনস্টেবল মুরাদ হোসেন। নির্যাতনের শিকার মহিন উদ্দিন বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা।
সোমবার পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মহিন জানান, ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি দুবাই থেকে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার সময় এক প্রবাসী কিছু স্বর্ণালংকার, একটি মুঠোফোন ও একটি ল্যাপটপ ঢাকায় তার এক প্রতিবেশীর কাছে পৌঁছে দিতে অনুরোধ করেন। ওই প্রবাসী মহিনের কাছে ঢাকায় থাকা প্রতিবেশীর একটি ছবিও দেন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দুই ব্যক্তি ওই ছবি দেখিয়ে জিনিসগুলো নিয়ে যান। তখন তারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মহিনকে ১০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু কিছুদিন পর দুবাইয়ে থাকা ওই প্রবাসী অভিযোগ করেন, মালামাল তার প্রতিবেশী পাননি।
প্রবাসী মহিন বলেন, ‘৩ মার্চ রাতে ডিবির এসআই শরীফুল ইসলাম বাড়িতে গিয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই গামছা দিয়ে আমার চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে যান। ডিবি কার্যালয়ে আটক রেখে শারীরিক নির্যাতন করেন। পরদিন ডিবি কার্যালয়ে সালিশ বসিয়ে ২০ মার্চের মধ্যে ডিবি পুলিশকে ছয় লাখ টাকা দিতে হবে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। অন্যথায় আমাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয়।’
মহিন আরও বলেন, ‘ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে একাধিক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পাশাপাশি ডিবি কোনো সালিশ করেনি এবং এ ঘটনায় ডিবির কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে উল্লিখিত কাগজেও স্বাক্ষর নেয়। এরপর আমি নগদ ২০ হাজার টাকা দিয়ে ডিবির কাছ থেকে ছাড়া পাই। পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হই।’
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ’অভিযুক্ত ডিবির দুই সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) বিজয়া সেনকে দেওয়া হয়েছে। তিনি পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।