সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৩ ১৬:২৫ পিএম
আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৩ ১৭:৫৪ পিএম
ওসি মোরশেদ আলম (বামে) ও উপপরিদর্শক (এসআই) সাধন বসাক। ছবি : কোলাজ প্রবা
হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে করা মামলায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপপরিদর্শককে (এসআই) কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
রবিবার (১২ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আসসামস জগলুল হোসেন তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মনিরুজ্জামান বুলবুল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুজনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল গত ৯ ফেব্রুয়ারি। পরে উচ্চ আদালত থেকে ২৮ দিনের আগাম জামিন নিয়েছিলেন তারা। এদিন তাদের জামিনের মেয়াদ শেষ হলে বিচারিক আদালতে ফের জামিন আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। শুনানি শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী আনিসুর রহমান আলমগীর বলেন, ‘২০১৮ সালের ৭ অক্টোবর মধ্যরাতে যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম স্বপন, বাবুল ও আমাকে সোনারগাঁ থানার সাবেক ওসি মোরশেদ আলম ও উপপরিদর্শক(এসআই) সাধন চন্দ্র বসাক বাসা থেকে তুলে নিয়ে থানায় নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে তারা জাহিদুল ইসলাম স্বপনের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দেন তারা।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরে জাহিদুল ইসলাম স্বপন ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আদালতে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর অভিযুক্তরা সাক্ষ্য না দিতে আমাকে নানাভাবে হুমকি দেন। পরে এ ঘটনায় আমি নিজে বাদী হয়ে মামলা করি। সেই মামলায় আজ জামিন আবেদন করেন মোরশেদ আলম ও সাধন বসাক।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দত্ত বাপ্পী বলেন, ‘আমরা ২০২০ সালে মামলা করি। আদালত জুডিসিয়াল তদন্তের জন্য পাঠায়। সেই তদন্ত রিপোর্ট আদালতে আসার পর আদালত মামলাটি আমলে নেন। সেই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।’
ওসি মোরশেদ আলমকে ২০১৯ সালে ২৯ জানুয়ারি প্রত্যাহার করে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখায় বদলি করা হয়। পরে রংপুর রেঞ্জের নীলফামারী জেলার গোয়েন্দা (ডিবি) শাখায় বদলি করা হয় তাকে। এরপর এপিবিএন হেডকোয়ার্টারে তাকে বদলি করা হয়। সর্বশেষ তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা (ডিবি) শাখায় কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া উপপরিদর্শক (এসআই) সাধন চন্দ্র বসাক ভোলা জেলায় গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত রয়েছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম শাহজাহান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এ মামলা মূলত আইনজীবী শফিউল পরিচালনা করতেন। স্থানীয় বারের আইনজীবী ছাড়া মামলা পরিচালনা করা যায় না, তাই আমাকে রাখা হয়েছে। আসামিদের উচ্চ আদলত থেকে আগাম জামিন করিয়েছিলেন তিনি। রবিবার নারায়ণগঞ্জ আদালতে জামিন আবেদন করেন তিনি। আমি শুধু স্বাক্ষর করেছি। আমি আর কিছুই বলতে পারব না।‘