চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৩ ০০:৪৮ এএম
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যভর্তি দুটি কনটেইনার পাচারের অভিযোগে বন্দরের দুই কর্মকর্তাসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংগৃহীত ফটো
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যভর্তি দুটি কনটেইনার পাচারের অভিযোগে বন্দরের দুই কর্মকর্তাসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) ঘটনাটি ঘটলেও তা গোপন রাখা হয়েছিল। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে ইপিজেড থানায় মামলা করলে শনিবার (১১ মার্চ) বিষয়টি জানাজানি হয়।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বন্দরের ইয়ার্ড থেকে কন্টেইনার চুরির ঘটনায় শুক্রবার (১০ মার্চ) বন্দর কর্তৃপক্ষ ৯ জনের নাম উল্লখ করে একটি মামলা করে। মামলায় আরও ১০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে এজাহারভুক্ত ৮ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পাচার হওয়া কন্টেইনার দুটি উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বন্দরের কর্মী, গাড়ি চালকদের যোগসাজশে কাজটি হয়েছে। কারণ সংরক্ষিত এলাকায় অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া কারো প্রবেশের সুযোগ নেই। সবদিক বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’
গ্রেপ্তার আটজন হলেন- বন্দর পরিবহন বিভাগের নিম্নমান বহিঃ সহকারী মো. আব্দুল হাকিম, বন্দরের নিরাপত্তরক্ষী কাজী আবু দাউদ, আনসার সদস্য অনুরুপ বিশ্বাস, আনসার এনামুল হক, ট্রেলার চালক মো. জালাল উদ্দিন, মো. আইয়ুব আলী, নাজমুল হোসেন ও হেলপার মো. নুরুল ইসলাম। এজাহারভুক্ত আরেক আসামি বন্দরের বরখাস্ত হওয়া নিরাপত্তা কর্মী রবিন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টায় ঘটনাটি ঘটে। বন্দরের নিরাপত্তা দপ্তরে কর্মরত এএসআই মারুফ হোসেন সাউথ কন্টেইনার ইয়ার্ডে গিয়ে দেখেন গেইটে কন্টেইনারসহ দুটি লরি এবং খালি একটি ট্রেইলার গেট দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। তিনি বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে নিরাপত্তা সদস্য নজরুল ইসলাম এসে গাড়িগুলো থামান। এসময় ট্রেইলারে থাকা চালক হেলপার এসে তাকে মারধর করেন। কিন্তু সেখানে নিয়োজিত থাকা আনসার সদস্য এগিয়ে আসেননি। উল্টো ট্রেইলারগুলোকে যেতে সহায়তা করেন। পরে বিষয়টি বন্দরের নিরাপত্তা ইনচার্জকে অবহিত করলে তারা এসে গাড়িগুলোর গতিরোধ করে ট্রেইলার চালক ও হেলপারকে আটক করেন। দুটি কন্টেইনারের একটিতে ২৯ লাখ টাকা মূল্যের ২৫ টন প্লাস্টিকের দানা, অন্যটিতে ৫ লাখ টাকার আমদানি করা কাপড় ছিল।