রাজবাড়ী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৩ ১৬:২৮ পিএম
আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৩ ২০:১৬ পিএম
রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রবা ফটো
কিছুদিন ধরে রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পদ্মার বিভিন্ন স্থানে এ বালু ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকজনকে কুপিয়ে ও গুলি করে আহত করা হয়েছে।এ পরিস্থিতি বিরাজ করলে যেকোনো সময় হত্যাকাণ্ডও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
রাজবাড়ী জেলাটি পদ্মানদী বেষ্টিত। এ নদীটি জেলার চারটি উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। প্রতিবছর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়। গত বছরও পদ্মার বিভিন্ন অংশ থেকে পাঁচটি স্থানে বালু মহাল লিজ দেওয়া হয়। তবে বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই এসব অঞ্চলে স্থানীয়সহ পাবনা ও কুষ্টিয়া এলাকার সন্ত্রাসীদের মহড়া চলমান রয়েছে।
গত সপ্তাহে পরপর দুই দিনে মিজানপুর ইউনিয়নের বেনিনগর কালিতলা এলাকায় গুলিবর্ষণ ও জৌকুরায় পাঁচ জনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত আট থেকে নয়জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে পদ্মা নদী এলাকায় জনসাধারণের মাঝে উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টুকু মিজি এবং জেলা পরিষদ সদস্য ও বাল্কহেড সমিতির সভাপতি আজম আলী মণ্ডলের মধ্যে রেষারেষি চলছে বলে জানান এলাকাবাসী। কিছুদিন আগে আজম মণ্ডলের বালুর চাতালের কয়েক শ্রমিককে কুপিয়ে ও গুলি করে আহত করা হয়। তবে দুজনই তাদের বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ঘটা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে পরস্পরকে দুষছেন। এ ঘটনায় একাধিক মামলা, অভিযোগ ও এজাহার দায়ের করেছে দুই পক্ষ।
জৌকুরা এলাকার বাসিন্দা আব্দুস ছালাম বলেন, ‘গত মাসের শেষে নদীর জৌকুড়া এলাকায় বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মারপিট, কুপিয়ে জখম ও গুলি করে বেশ কয়েকজনকে আহত করা হয়েছে। এতে আমরা মারাত্মক আতঙ্কে বসবাস করছি। এভাবে চলতে থাকলে আমরা কোথায় যাব।’
একই এলাকার আমেনা বেগম, রহিমা খাতুন, আমির হোসেনসহ কয়েকজন এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, আমরা নিরীহ মানুষ। নদীর পারে বসবাস করি। কিন্তু এই বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়সহ পাবনা, কুষ্টিয়ার সন্ত্রাসীরা মারপিট করে আমাদের সমস্যা করছে। আমরা এখন ভয়ে, আতঙ্কে বসবাস করছি।
তারা বলেন, ছোট ছোট ছেলেরা অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় এখান দিয়ে। মিজানপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান টুকু মিজি ও জেলা পরিষদ সদস্য আজম মণ্ডল দুই জনের রেষারেষির কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে এ সমস্যা কমবে না বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টুকু মিজি বলেন, ‘আমি বালু ব্যবসা ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত নই। যেখানে এ ঘটনা ঘটেছে সে এলাকা আমার আওতার বাইরে। সেখানে কী ঘটেছে সেটা আমি জানি না। তবে শুনেছি তাদের লোকজনই সরকারি ড্রেজার দিয়ে সেখানে বালু উত্তোলন করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝামেলায় জড়িয়েছে। আমার কোনো লোকজন সেখানে যায়নি।’
রাজবাড়ী বাল্কহেড সমিতির সভাপতি এবং জেলা পরিষদ সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আজম আলী মণ্ডল বলেন, ‘আমি বালু উত্তোলন করি না। বালুর ঘাট মালিকদের কাছ থেকে বালু কিনে বালুর ট্রলারে করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করি। একটি সন্ত্রাসী বাহিনী সেখানে গিয়ে অবৈধভাবে আমার ট্রলার থেকে চাঁদা আদায় করছে। তাই আমি আমার বালুর ট্রলারের লোকদের চাঁদা দিতে নিষেধ করলে সন্ত্রাসীরা আমার তিনজন লোককে গুলি করে। এরপর বালুর চাতালে আমার আত্মীয় স্বজনদেরও কুপিয়ে জখম করে চেয়ারম্যানের লোকেরা। কিন্তু উল্টো চেয়ারম্যান নিজেই আবার আমার নামে, আমার আত্মীয়-স্বজনসহ শ্রমিক কর্মচারীদের নামে মামলা দিয়েছে। আমি এর সঠিক তদন্ত চাই জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে।’
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এমএম শাকিলুজ্জামান বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা ও দুর্বৃত্তায়ন বরদাস্ত করব না। জলমহাল বা বালু মহাল যেখানেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানোর চেষ্টা করা হবে তা প্রতিহত করা হবে। যেকোনো মূল্যেই এখানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে।’