সিলেট অফিস
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৩ ১৯:০৭ পিএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৩ ১৯:১৮ পিএম
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ফাইল ফটো
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুর্ভোগ ও অপর্যাপ্ত কার্গো ফ্লাইট নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের শেষ নেই। এসব নিয়ে নাখোশ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি সংকট সমাধানে ব্যবস্থা নিতে বিমান প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীকে ডিও লেটার দিয়েছেন। এরপরই প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হয়েছে।
এ বিমানবন্দর ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের তুলনামূলকভাবে অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে প্রবাসীরা বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেছেন। সার্বিক যাত্রীসেবার মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী ওসমানী বিমানবন্দরে নির্মিতব্য টার্মিনাল ভবন, কন্ট্রোল টাওয়ার, প্রশাসনিক ভবন, কার্গো ভবন ও রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত চলমান উন্নয়নকাজ শেষের নির্দেশ দেন।
ওসমানী বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহন পুনরায় চালু, লন্ডন-ঢাকা-সিলেট রুটে ভাড়ার বৈষম্য দূর করা, ওয়েটিং রুম ও পচনশীল পণ্য প্যাকেজিং হাউস নির্মাণ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালু করাসহ বিভিন্ন সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ডিও লেটার দিয়ে গত জানুয়ারির শেষ দিকে বিমান প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ওসমানী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলছে। এই কাজ সম্পন্ন হলে যাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত হবে।
গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী পরিবহন বন্ধ রয়েছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডিও লেটারে উল্লেখ করেন। এতে সিলেট-ঢাকা রুটে টিকিট সংকট দেখা দিয়েছে, যাতে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে। এদিকে বিমানের লন্ডন-ঢাকা রুটে যাত্রীদের আটশ পাউন্ড ব্যয় হলেও লন্ডন-সিলেট রুটে গুণতে হয় এক হাজার পাউন্ড। অথচ দূরত্বের হিসাবে লন্ডন-সিলেট রুটে ভাড়া কম হওয়ার কথা। এই ভাড়া বৈষম্য দূর করলে যাত্রীরা সরাসরি সিলেট এলে বিড়ম্বনার হাত থেকেও রেহাই পাবেন।
ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিলেটের বহু মানুষ বসবাস করেন, যাদের দেশে আসার ক্ষেত্রে ওসমানী বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট বিভাগের চার জেলা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সবজি রপ্তানির সম্ভাবনা বেড়েছে। কিন্তু ওসমানীতে প্যাকেজিং ব্যবস্থা না থাকায় পচনশীল পণ্য রপ্তানিতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। এ ছাড়া কার্গো সার্ভিসের ব্যবস্থা এখনও না হওয়ায় রপ্তানিকারকদের সমস্যা কাটছে না।
সিলেট থেকে লন্ডনের পাশাপাশি বিশ্বের অন্য দেশগুলোতেও সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থার জন্য ডিও লেটারে অনুরোধ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।