কুমিল্লা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৩ ১২:৪১ পিএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৩ ১৩:০৯ পিএম
র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার পাসপোর্ট দালাল চক্রের ২৪ জন। প্রবা ফটো
কুমিল্লায় পাসপোর্ট দালাল চক্রের ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাসপোর্ট, ডেলিভারি স্লিপ, জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন, বিভিন্ন সিল, প্যাড, নগদ অর্থসহ পাসপোর্ট সংক্রান্ত নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (৬ মার্চ) সকালে র্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- পাসপোর্ট দালল চক্রের হোতা কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার শাকতলা গ্রামের আহম্মেদ সুজন, কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকার শাহাদাত হোসেন, আদর্শ উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের মো. শরীফ, একই গ্রামের মো. মাসুক ও মো. আনিছুর রহমান, লিটন খান, ডালিম সরকার, মো. ইরফান, শওকত আলী ওরফে শওকত আকবর, ওজায়ের হোসেন সাকিব, কুমিল্লা নগরীর নতুন চৌধুরী পাড়ার দেলোয়ার হোসেন রোমান, মুরাদনগর উপজেলার কুরুইল গ্রামের আব্দুর রহিম, আদর্শ সদর উপজেলার মূড়াপাড়া এলাকার ইশান আহম্মেদ রাব্বি, চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার মগধারা গ্রামের মুজিবুর রহমান।
এ ছাড়া কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার পীর যাত্রাপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম, আদর্শ সদর উপজেলার মো. শাফি, একই গ্রামের মো. তুহিন, খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা থানার ব্রিজপাড়া গ্রামের রুহুল আমিন রুবেল, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার ছোটরা গ্রামের মাজহারুল ইসলাম, বুড়িচং উপজেলার পয়াত গ্রামের আব্দুল হান্নান বাবুল, একই গ্রামের হাছিবুল হাসান জিমি, বুড়িচং উপজেলার শিকারপুর গ্রামের তানজিদ হাসান, দেবিদ্বার উপজেলার ওয়াহেদপুর গ্রামের ইমরুল হাসান ওরফে ইমরুল, বুড়িচং উপজেলার পীর যাত্রাপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ এবং আদর্শ সদর উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম।
মেজর সাকিব বলেন, বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়ার পর রবিবার বিকাল থেকে শহরের পাসপোর্ট অফিসসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করি। এসময় দালালচক্রের ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের কাছ থেকে ২০টি পাসপোর্ট, ১০৮টি ডেলিভারি স্লিপ, ২৯টি জাতীয় পরিচয়পত্র কার্ড, একটি মোবাইল সেট, সাতটি বিভিন্ন সিল, একটি প্যাড, নগদ ৪৩ হাজার টাকাসহ পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেন, তারা পাসপোর্ট দালাল চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়ার নাম করে ভুক্তভোগী লোকজনের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত রেট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিল। মূলত তারা তিনটি গ্রুপে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে। যার একটি গ্রুপ সাধারণ মানুষকে সহজভাবে পাসপোর্ট তৈরি করার নাম করে বিভিন্ন এজেন্ট নিয়ে আসে। এই এজেন্টের গ্রুপ ভুক্তভোগীদের অনলাইন আবেদন ও ব্যাংক ড্রাফট করে দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুতসময়ে পাসপোর্ট দিবে বলে ডেলিভারি স্লিপ নিজেদের কাছে রেখে দেয়। অপর গ্রুপ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে পাসপোর্ট ডেলিভারি করার নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করে। এভাবেই তাদের কাছে টাকা জমা দিলে তারা বিভিন্নভাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুত করে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করে পাসপোর্ট অফিস থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করার ব্যবস্থা করে আসছিল।
তাদেরকে আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।