বরিশাল অফিস
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৩ ১৩:৩১ পিএম
বরিশাল নগর ভবন। ছবি : সংগৃহীত
বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ৩৭ প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৬৫ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে। মামলা দায়েরের বিধান না থাকায় প্রতি বছরই ভারী হচ্ছে বকেয়ার খাতা।
ওয়েস্টার্ন পাওয়ার ডিট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন বলেন, বরিশালের ২৭টি ফিডারের মাধ্যমে প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে ওজোপাডিকো। বছরে এ বাবদ বিদ্যুৎ বিল হয় প্রায় ৩২০ কোটি টাকা। সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত আদায় হলেও সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিল নিয়ে ঘটে বিপত্তি। এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে বারবার সভা করে এবং চিঠি দিয়েও কার্যকর কিছু হচ্ছে না। সিটি করপোরেশন অন্তত ১১ বছর ধরে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছে না। এতে বড় আকারের বিল বকেয়া পড়েছে। বিলের অর্থ আদায় করতে না পেরে মন্ত্রণালয়ের চাপের মুখে আছে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ।
ওজোপাডিকো ছাড়াও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও ৩-এর বিল বকেয়া পড়েছে। তবে ওজোপাডিকোরই বেশি। সরকারি ও আধাসরকারি ৩১ প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের বকেয়া রয়েছে ৬৩ কোটি টাকা। আর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও ২ পাবে প্রায় দুই কোটি টাকা। বকেয়ার মধ্যে শুধু বরিশাল সিটি করপোরেশনের কাছেই রয়েছে ৬০ কোটি টাকা। এছড়া পুলিশ, সার্কিট হাউস, শিল্পকলা একাডেমি, সিভিল সার্জনের দপ্তরসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে বাকিটা।
সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন, ওজোপাডিকোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে অবহিত করা হয়নি। ওজোপাডিকোর ৬০ কোটি টাকা নয়, সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা বকেয়া থাকতে পারে।
সূত্র জানায়, বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতাধীন ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪০ জন গ্রাহকের মধ্যে মোট বকেয়া ১৫ কোটি ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৮৮৫ টাকা। এরমধ্যে সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা এক কোটি ২২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৯৮ টাকা। বাকি বকেয়া ব্যক্তিপর্যায়ে।
এই সমিতির আওতায় সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের বকেয়ার মধ্যে রয়েছে- পাঁচটি থানার কাছে সাত লাখ ৫৫ হাজার ৯৪৮ টাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লোক্সের কাছে পাঁচ লাখ ৮৯ হাজার ৪২৭ টাকা, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আওতাধীন কার্যালয়ের কাছে ছয় লাখ ৩৩ হাজার ৬২৩ টাকা। বরিশাল সিটি করপোরেশন এবং তিনটি পৌরসভার কাছে ৫৮ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫৩ টাকা। এর মধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশনের কাছে ২৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮২৪ টাকা, বাকেরগঞ্জ পৌরসভার কাছে ২৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৯৭ টাকা, মুলাদী পৌরসভায় ৪৮ হাজার ৩৮৫ টাকা, মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভায় আট লাখ ৯৫ হাজার ২৪৭ টাকা। পাঁচ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কাছে বকেয়া রয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯১ টাকা এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বকেয়া রয়েছে ৪১ লাখ ৭৫ হাজার ২৫১ টাকা। সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৯৪ টাকা।
বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ব্যক্তিপর্যায়ে বকেয়া আদায়ের জন্য মামলার বিধান রয়েছে। সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বকেয়া বিল আদায়ে মামলার বিধান নেই। ওই সকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা বলতে চিঠি চলাচালির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন করা যায় না। সেই সুযোগ নিয়ে সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানও বকেয়া বিল পরিশোধে তেমন একটা উদ্যোগী হয় না।