হবিগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৪:০৭ পিএম
আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৪:৫৮ পিএম
শতবর্ষী আলীমুদ্দিন ভূঁইয়া। প্রবা ফটো
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মুড়িয়াউক গ্রামের আলীমুদ্দিন ভূঁইয়া। বয়স শতবর্ষের কোঠায়। সাত মাস ধরে বয়স্ক ভাতা না পেয়ে খোঁজ নিতে যান স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয়ে। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন তিনি ‘মৃত’। তার নাম উঠেছে মৃত্যু নিবন্ধন তালিকায়। তাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তার বয়স্ক ভাতা। আর নামটি সে তালিকায় তোলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
আলীমুদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘সাত মাস ধরে ভাতা পাচ্ছি না। হঠাৎ জানতে পারি আমার নাম মৃতের তালিকায় তোলা হয়েছে। এরপর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউএনও অফিসে গিয়েছি, তারা কাগজপত্র রেখেছেন কিন্তু এখনও কিছু হয়নি।’
১২ বছর থেকে ভাতা পাচ্ছিলেন আলীমুদ্দিন জানিয়ে তার পুত্রবধূ রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘আমার শ্বশুরের নাম মৃতের তালিকায় এসেছে শুনে আমি ইউএনওর কাছে যাই। উনার কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ইউএনও বলেছেন ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে। ১০ দিন আগে চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি বলেছেন একবার আমি মৃত দিয়েছি এখন জীবিত দেওয়া সম্ভব নয়। তিন মাস ধরে বিভিন্ন দপ্তরে যাওয়া-আসা করছি, কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না।’
ইউপি চেয়ারম্যান মো. নোমান মিয়া বলেন, ‘স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বারের মাধ্যমে জানতে পারি তিনি মারা গেছেন, তাই তার নাম মৃত তালিকায় তুলেছি। এটি ভুলে হয়েছিল। পরে বিষয়টি জানার পর সংশোধন করে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে পাঠিয়েছি। শিগগির তিনি ভাতা পাবেন।’
স্থানীয় ইউপি মেম্বার নূর আলম বলেন, ‘আলীমুদ্দিনের বয়স প্রায় ১০০ বছর বা তার বেশি হবে। তাকে সবসময়ই কিছু দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু হঠাৎ শুনতে পাই তাকে মৃত দেখিয়ে ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ গ্রামেই আরেকজন আলীমুদ্দিন ছিলেন যিনি মারা গেছেন। কিন্তু ওই আলীমুদ্দিন এখনও জীবিত আছেন। আমার গ্রামে কোনো লোক মারা গেলে অবশ্যই আমার জানার কথা। বিষয়টি জেনে আমিও অবাক হয়েছি। কেউ না কেউ আলীমুদ্দিনের নাম মৃতের তালিকায় তুলেছে। তার ভাতার কার্ড সংশোধনের বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আফজালুর রহমান বলেন, ‘চেয়ারম্যানের তালিকায় আলীমুদ্দিনকে মৃত দেখানোয় আমরা অন্যজনকে বয়স্ক ভাতাটি স্থানান্তর করেছিলাম। বিষয়টি জানার পর সংশোধনের জন্য দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে তিনি ভাতা তুলতে পারবেন।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদা সুলতানা বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এর বাইরে কোনো কথা বলবেন না বা তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।