ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:৪৬ পিএম
ভবনের সামনে খোলা মাঠে পাঠ দেওয়া হচ্ছে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের। বুধবার বেলা ১১টার দিকে তোলা। প্রবা ফটো
বিদ্যালয় ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। পলেস্তারা খসে পড়েছে ছাদের। মেঝেতেও ফাটল স্পষ্ট। কিছু ফাটলে সিমেন্ট দিয়ে আস্তরণের পর লাগানো হয়েছে রং। শ্রেণিকক্ষ সংকটে মাঠেই পাঠ দেওয়া হচ্ছে। এ চিত্র ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের হাজীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন জানান, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে দুই শিফটে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ক্লাস হয়। তাদের ছুটি হওয়ার পর তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আসে। ক্লাস চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সকাল ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ক্লাস হয়। খোলা আকাশের নিচেই তাদের পাঠদান করা হয়। তবে বর্ষায় দুই শিফট করার পরও নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না।
১৯৭৩ সালে হাজীপুর গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ৫৩ শতাংশ জমিতে টিন আর বেড়া দিয়ে বিদ্যালয়টি নির্মাণ করা হয়েছিলো। কিন্তু চার থেকে পাঁচ বছরের মাথায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর দীর্ঘদিন সেটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে ১৯৯০ সালে বিদ্যালয়টি পুনরায় চালু করা হয়। ১৯৯৯ সালে সরকারিভাবে দুই কক্ষের ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এর একটিতে চলছে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণির ক্লাস। অন্যটিতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন শিক্ষকরা। ভবনের সিঁড়ির রুমে চেয়ার-টেবিল পেতে চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম।
শিক্ষার্থী সাহিদা সুলতানা বলে, অনেক সময় প্রচন্ড রোদের মধ্যে ক্লাস হয়। বর্ষাকালে বেশির ভাগ সময় মাঠ ভেজা থাকে। তখন কষ্ট হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, বিদ্যালয়ের ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নতুন ভবনের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে যোগাযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু কোনো ফল আসছে না।
নতুন একটি ভবনের জন্য এরই মধ্যে লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সোনাগাজী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।