মোংলায় লাইটার জাহাজডুবি
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৫:৪৩ পিএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৬:০৭ পিএম
মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে ডুবে যাওয়া লাইটার জাহাজের ৫০০ টন সারই পানিতে মিশে গেছে।
মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে ডুবে যাওয়া লাইটার জাহাজের ৫০০ টন সারই পানিতে মিশে গেছে। পানিতে সার মিশে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশকর্মীরা।
সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘নদীর পানিতে সার মিশে যাওয়ায় জলসম্পদের ক্ষতিসহ পার্শ্ববর্তী সুন্দরবনের পরিবেশেও এর প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।’
তবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘মোংলা বন্দরে জোয়ার-ভাটার নদীতে এই সার চারদিকে ছড়িয়ে গেছে। অনেক বড় জায়গায় এটা হওয়ার কারণে হয়তো ক্ষতির পরিমাণটা কম হবে।’
এমন দুর্ঘটনা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে সেখানকার জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে উল্লেখ করে এক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গত ২৫ জানুয়ারি মোংলা বন্দরের হারবাড়িয়া-৮ এলাকায় লাইটার জাহাজ ‘শাহজালাল এক্সপ্রেস’ ডুবে যায়। বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী ৬ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়। তবে কোনো সার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
শাহজালাল এক্সপ্রেসের মালিক আজাহার সিদ্দিক বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘জাহাজ ডুবে যাওয়ার ১১ দিন পর এটি উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়েছে। জাহাজে কোনো সার পাওয়া যায়নি। ৫০০ টনের পুরো সারই নদীতে তলিয়ে পানির সঙ্গে মিশে গেছে। সার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।’
লাইটার জাহাজটি উদ্ধারে এরই মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাট বোট (বিশেষ ধরনের নৌযান) রওনা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘২০ দিনের মধ্যে জাহাজটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে।’
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন শাহীন মজিদ জানান, গত ২৫ জানুয়ারি মোংলা বন্দরের হারবাড়িয়া-৯-এ অবস্থান করা লাইব্রেরিয়া পতাকাবাহী ‘এমভি ভিটা অলেম্পিক’ থেকে ৫০০ টন এমওপি সার নিয়ে যশোরের নওয়াপাড়ার উদ্দেশে আসছিল লাইটার জাহাজ ‘শাহজালাল এক্সপ্রেস’। ওইদিন মধ্যরাতে হারবাড়িয়া-৮-এ ক্লিংকার নিয়ে অবস্থান করা ‘সুপ্রিম ভ্যালর’ নামে বিদেশি একটি জাহাজ টার্ন করার সময় তাতে ধাক্কা লাগলে শাহজালাল এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন রুমে পানি ঢুকে ডুবে যায়। এ সময় লাইটারটিতে থাকা ৯ জন নাবিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এসব সার কানাডা থেকে আমদানি করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)।