রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০০:০৫ এএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:০৬ এএম
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা কক্ষের সামনে ভিড়। প্রবা ফটো
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে গেলে রোগীরা পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাড়তি টাকা দিলে দালাল চক্রের মাধ্যমে সহজেই পরীক্ষা করানো যাচ্ছে বলে দাবি রোগীর স্বজনদের। নাটোরের পঞ্চাশোর্ধ্ব সাজেদা বেগম ভুগছেন বুকের টিউমারে। গত সোমবার তিনি রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসক দেখিয়েছেন। তাকে এক্স-রে দেওয়া হয়। ২২০ টাকার টিকিট করে হাসপাতালের এক্স-রে রুমের সামনে চক্কর কাটছেন সাজেদা। তবে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত তিনি এক্স-রে করাতে পারেননি। তাকে বলা হয়েছে এক্স-রে মেশিন নষ্ট। বাইরের কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই এক্স-রে করতে খরচ পড়বে আনুমানিক ৮০০ টাকা। এই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা সাজেদার পক্ষে সম্ভব নয়।
শুধু সাজেদা নন, রামেক হাসপাতলের বহির্বিভাগে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি থেকে শুরু করে প্রায় সব রোগের পরীক্ষা করতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। একেক সময় একেক পরীক্ষা যন্ত্র নষ্ট থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
হাসপাতালের বহির্বিভাগে তিনটি কক্ষে এক্স-রে করা হয়। তবে সোমবার থেকে বলা হচ্ছে দুটি মেশিন নষ্ট। অন্যটিও নষ্টের পর্যায়ে। একটিমাত্র মেশিনেই সব রোগীর এক্স-রে করানো হচ্ছে। হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৫০০-৬০০ রোগীর এক্স-রে করানো হয়।
এক্স-রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা মেশিন নষ্টের কথা বললেও হাসপাতলের একটি সূত্র বলছে, এক্স-রে করার ফিল্ম ফুরিয়ে যাওয়ায় তিনটি এক্স-রে মেশিন সচল রাখতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা।
এক্স-রে ছাড়া হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাফি, এমআরআই, সিটিস্ক্যানসহ প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষায় রোগীর চাপ প্রচুর। এমআরআই করতে বাইরে যেখানে খরচ হয় ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা, সেখানে সরকারি এই হাসপাতালে খরচ মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে বাইরে খরচ দেড় থেকে ২ হাজার টাকা। আর এই হাসপাতালে খরচ সর্বোচ্চ ২২০ টাকা।
কাগজে কলমে রামেক হাসপাতাল ১ হাজার ২০০ বেডের হলেও প্রতিদিন এখানে গড়ে ২ থেকে আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। রাজশাহীর আশপাশের ১২ জেলার রোগী রামেক হাসপাতালে আসেন।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফএম শামীম আহাম্মদ বলেন, ‘ঠিকাদার এক্স-রে মেশিনের ফিল্ম সাপ্লাই দিতে দেরি করছিলেন। তাই একটু সমস্যা হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার দুপুরে ৯০ প্যাকেট ফিল্ম দিয়ে গেছেন। তা দিয়ে আগামী তিন মাস চলবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১ হাজার ২০০ শস্যার হাসপাতালে আমরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে গড়ে প্রায় ২ হাজার ৪০০ রোগী ভর্তি রেখেছি। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’