গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:৩২ পিএম
গাছে ফুটে রয়েছে শিমুল ফুল। প্রবা ফটো
ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। প্রতিটি ঋতুই যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। শীতের বিদায় আর বসন্তের শুরুতে শিমুলের লাল পাপড়িতে নতুন করে সাজে গ্রামবাংলা। গোপালগঞ্জের সেই রূপকন্যা আজ প্রায় বিলুপ্ত। বছর দশেক আগেও জেলার গ্রামগঞ্জে বাড়ির পাশে, রাস্তার পাশে দেখা যেত। এখন তেমন একটা চোখে পড়ে না।
প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো ও বেড়ে ওঠা এই সৌন্দর্য মানুষ উজাড় করে দিয়েছে। অতীতে এই গাছ ব্যাপক হারে ব্যবহার করা হয়েছে প্যাকিং বাক্স তৈরিতে। ইটভাঁটার জ্বালানি হিসেবে। সেই তুলনায় রোপণ করা হয়নি নতুন চারা।
শুধু সৌন্দর্য না, শিমুলগাছ স্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
গোপালগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘শিমুলগাছ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে অন্যদিকে পক্ষীকুলের ভালো বাসস্থল শিমুলগাছ। এই গাছ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের পাখি তাদের বাসা তৈরি করতে পারছে না।’
এই গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় কাক, কোকিল, চিল, বকসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি বাসাবেঁধে বসবাস করত।
শীতের শেষে পাতা ঝরে যায় শিমুলগাছের। বসন্তের শুরুতে ফুল ফোটে। চৈত্র মাসের শেষের দিকে এর ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখের দিকে ফলগুলো পেকে শুকিয়ে বাতাসে ভেসে যায়। যেখানে পড়ে সেখানেই চারা জন্মায়। অন্যান্য গাছের মতো এ গাছ কেউ শখ করে লাগায় না। নেওয়া হয় না কোনো যত্ন। চোখের আড়ালেই বেড়ে ওঠে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর এম এ সাত্তার বলেন, ‘আমি গ্রামে বড় হয়েছি। নদীর ধারে ব্যাপকভাবে শিমুলগাছ দেখেছি। শিল্পায়নের ফলে এসব গাছ কমে গেছে। এর অন্যতম কারণ হলো শিমুলগাছ কেটে ফেলা আর বীজ বপন না করা। শিমুল ফুল প্রকৃতিতে লাল আভা ছড়ায়। শিমুল কমে যাওয়ায় প্রকৃতিও তার রঙ হারাচ্ছে। গ্রামের প্রকৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের উচিত হবে ব্যাপক হারে শিমুলগাছ লাগানো।’
শিমুলগাছের রয়েছে নানা রকম উপকারিতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব। প্রাকৃতিকভাবে তুলা আহরণের অন্যতম অবলম্বন শিমুলগাছ। এ গাছের সব অংশেরই রয়েছে ভেষজগুণ। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা এখনও নানা রোগের চিকিৎসায় এ গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করেন।
গোপালগঞ্জ কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক অরবিন্দ কুমার রায় বলেন, ‘শিমুল এমন একটি গাছ যা রঙের প্রতীক। যখন ফুল ফোটে তখন চারদিক লাল হয়ে যায়। শিমুল একটি ঔষধি বৃক্ষ। বিভিন্ন রোগে শিমুলের মূল ব্যবহার হয়ে থাকে।’
শিমুলগাছের প্রয়োজন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শিমুলগাছ পরিবেশ বিশুদ্ধ করে। শিমুলগাছ থেকে আমরা প্রাকৃতিক তুলো পেয়ে থাকি। এই গাছ না থাকায় এখন আমরা কৃত্রিম তুলা ব্যবহার করছি।’ তিনি শিমুলগাছ রোপণের আহ্বান জানান।