গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:০৯ পিএম
টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ-ঘোনাপাড়া সড়কের মাঝখানে থাকা প্রাঢ ২০০ বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই চলছে প্রশস্তকরণের কাজ। প্রবা ফটো
গোপালগঞ্জে আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্ত করার কাজ চলছে বিদ্যুতের খুঁটি মাঝখানে রেখেই। খুঁটি সরানো নিয়ে সড়ক ও বিদ্যুৎ বিভাগের মধ্যে চলছে রশি টানাটানি। টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ-ঘোনাপাড়া ৪৪ কিলোমিটারের এই সড়কের মাঝখানে রয়েছে প্রায় ২০০ বৈদ্যুতিক খুঁটি।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বলছে, বিদ্যুৎ বিভাগ খুঁটি কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। আর বিদ্যুৎ বিভাগ (ওজোপাডিকো) বলছে, অর্থ বরাদ্দ না থাকায় কিছু করতে পারছে না।
২০২৪ সালের ৩০ জুন এই মহাসড়কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কাজ শেষ হলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওপর যানবাহনের চাপ কমবে। ঢাকার সঙ্গে খুলনার দূরত্ব কমবে ২৫ কিলোমিটার। এতে যানবাহনের জ্বালানি খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি যাতায়াতকারীদের সময় বাঁচবে। কিন্তু দুই পক্ষের রশি টানাটানিতে নির্ধারিত সময় কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। রাস্তার মাঝখানে খুঁটি থাকায় ঠিকমতো রোলার দিয়ে মাটি ভরাট করতে পারছেন না শ্রমিকরা। এতে করে খুঁটির গোড়ায় ও তার আশপাশে মাটি ঠিকমতো না বসায় পরবর্তীতে মাটি বসে গর্ত হতে পারে বলে মনে করেন তারা। এসব খুঁটির কারণে দুর্ঘটনা বাড়বে বলে এলাকাবাসী ও যান চালকরা জানিয়েছেন।
অ্যাম্বুলেন্স চালক জিহাদ শেখ বলেন, ‘প্রতিনিয়ত রোগী নিয়ে আমাদের খুলনা যেতে হয়। আমরা শহর হয়ে এই সড়কটি ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু সড়কে যদি খুঁটি রেখে কাজ করে তাহলে এ সড়ক দিয়ে যানচলাচল করবে কীভাবে? খুঁটি অপসারণ না করে সড়ক বড় করলেও প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যাবে।’ দ্রুত খুঁটি অপসারণ করার দাবি জানান তিনি।
সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের মো. দিদার শেখ বলেন, ‘দুর্ভোগ কমাতে টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ-ঘোনাপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। কিন্তু বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই সড়কের কাজ করা হচ্ছে। সড়কের মাঝে যদি খুঁটি থাকে তাহলে চলাচল করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে।’
সড়কের মাঝখানে খুঁটি রেখে কাজ করার এ বিষয়টিকে হাস্যকর ব্যাপার বলে মনে করেন সদর উপজেলার মোলোপাড়া এলাকার মো. রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘খুঁটি রেখে সড়কের কাজ করা হচ্ছে এটা একটা হাস্যকর ব্যাপার। খুঁটি রেখে কীভাবে সড়কের কাজ করা হয় তা আমার বুঝে আসে না। আসলে কি সড়কের উন্নয়ন হচ্ছে নাকি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মশকরা করা হচ্ছে বুঝে উঠতে পারছি না।’ ৪৪ কিলোমিটারের এই সড়ক ১৮ ফুট থেকে ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার কাজ চলছে ছয়টি প্যাকেজে। ইতোমধ্যে নির্মাণকাজের এক বছর পেরিয়েছে। গোপালগঞ্জ অংশে ৫ ও ৬ নম্বর প্যাকেজের বর্ধিত অংশের মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের প্রায় ২০০ খুঁটি অপসারণ।
ঠিকাদার কামরুল ইসলাম বলছেন, ‘খুঁটি না সরিয়ে কাজ করায় মাটি ঠিকমতো বসানো যাচ্ছে না। কাজের পর যদি আবার খুঁটি উঠিয়ে কাজ করা হয় তাহলে ঠিকমতো বসবে না। এ কারণে কাজের মান ভালো হবে না। সময় মতো কাজ শেষ করাও সম্ভব হবে না।’
এই সমস্যার সমাধান কী তা তিনি বলতে পারেননি। গোপালগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদ হোসেন বলেন, চিঠি দেওয়া হলেও বিদ্যুৎ বিভাগ খুঁটি সরিয়ে নিচ্ছে না। এতে কাজের গতি কমে যাচ্ছে। কিন্তু সওজের কিছু করার নেই। আর বিদ্যুৎ বিভাগ গোপালগঞ্জ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলছেন, খুঁটি সরোনোর জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তবে প্রাক্কলিত টাকা হাতে পেলেই সরানোর কাজ শুরু হবে।