চাঁদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:৩৭ এএম
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৩:১৭ পিএম
বাড়ির উঠোনে এইভাবেই ছিল কামাল পাটওয়ারীর মরদেহের খাটিয়া। প্রবা ফটো
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে নিজ সন্তানকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করতে বাধা দেন বাবা। একই ঘটনায় স্বামীর মরদেহ দাফনের আগেই নিজের ও সন্তানের ন্যায্য পাওনা দাবি করেন মৃত কামাল পাটওয়ারীর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। এ ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর উপজেলার মাতৈন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
হাজীগঞ্জ থানার পুলিশসহ বিষয়টি সুরাহা করে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইউছুফ প্রধানীয়া সুমন।
মৃত কামাল পাটওয়ারীর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বিউটি বলেন, 'প্রায় ২৩ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় পাটওয়ারীর সঙ্গে। আমি কালো হওয়ায় শ্বশুর-শাশুড়ি কামালের স্ত্রী হিসেবে আমাকে মেনে নেয়নি। বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় সময় নির্যাতন করতেন পরিবারের সবাই।'
তিনি আরও বলেন, '২০০০ সালের দিকে আমার বাবা টাকা খরচ করে কামালকে বিদেশ পাঠায়। কামাল বিদেশ যাওয়ার পর সব টাকা তার বাবার নামে পাঠাতেন। এক পর্যায়ে কামাল অসুস্থ হয়ে পড়লে বিদেশ থেকে দেশে চলে আসেন। সেই সময় কামালকে তার পরিবারের কেউ কোনো চিকিৎসা করায়নি। আমি এমপি স্যারের সহযোগিতায় ঢাকায় চিকিৎসা করাই। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার স্বামী মারা যায়। তার মরদেহ দাফন করার জন্য বাড়িতে নিয়ে আসি। আমার শ্বশুর কামাল তার সন্তান নয় বলে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনে বাধা দেন। তাই আমি ও আমার সন্তানের ন্যায্য দাবি শ্বশুর থেকে বুঝে না নেওয়া পর্যন্ত মরদেহ দাফন করতে দেইনি। রাতে পুলিশ ও ইউপি চেয়ারম্যান এসেছেন। তাদের উপস্থিতিতে স্বামীর রেখে যাওয়া বসতভিটা ও দুই সন্তানের ন্যায্য অধিকার বুঝিয়ে দেয়ার আশ্বাস পেয়েছি।'
ইউপি চেয়ারম্যান ইউছুফ প্রধানীয়া সুমন বলেন, 'রাত ১২টার সময় কামাল হোসেনের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। তাদের পারিবারিক বিরোধ নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কামালের বাবা কাদের পাটোয়ারী তার ছেলে-মেয়েদের মধ্যে সম্পত্তি সমানভাগে বুঝিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।'
কামাল হোসেনের বাবা আবদুল কাদের বলেন, সব সন্তানকে সমানভাগে সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয়া হবে। কাউকে ঠকানো হবে না। সবাই তাদের ন্যায্য অধিকার পাবে।