মাগুরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০২:০৯ এএম
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:৪৪ এএম
নিহত জায়েদ জোয়ার্দ্দার। প্রবা ফটো
মাগুরা সদর উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় এক আওয়ামী লীগ কর্মী খুনের জেরে ওই এলাকায় ৩০ ঘরবাড়ি ভাঙচুরের যে ঘটনা শোনা গেছে, তা আসলে গুজব। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার কোনো বাড়ি ভাঙচুর হয়নি। তবে খুনের ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হাজীপুর ইউনিয়নের মসিয়ার জোয়ার্দ্দারের ছেলে আওয়ামী লীগ কর্মী জায়েদ জোয়ার্দ্দার গত শনিবার প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন। তিনি হাজীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। এ নিয়ে এলাকায় থমথমে অবস্থা তৈরি হয়। সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, কিছু দোকানপাট খোলা রয়েছে। ঘটনাস্থল ঘিরে পুলিশ টহল দিচ্ছে।
হাজীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ৩০ বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা সম্পূর্ণ গুজব। শনিবার রাতে একটি বাড়ি ভাঙচুর হয়েছে।
রাস্তায় দেখা হয় নিহত জায়েদের ছোট বোন ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী জুয়েলের সঙ্গে। তিনি বলেন, আজ (সোমবার) নতুন করে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। শনিরাত রাতে একজনের বাড়ি কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে আমরা কোনো সংঘর্ষ চাই না। এ মুহূর্তে পরিবারের অবস্থা ভালো নেই।
ভাঙচুর হওয়া বাড়িটি জায়েদদের বাড়ি থেকে ২০ গজ দূরে। ওই বাড়িটি বিল্লাল খাঁর। তবে বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির কিছু অংশ ক্ষতি হলেও আর সব ঠিকঠাক দেখা গেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত তাদের কারও দেখা মেলেনি।
সংঘর্ষ এড়াতে শ্রীরামপুর গ্রামে দায়িত্বরত পুলিশের পরিদর্শক ওমর আলী বলেন, বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা গুজব। এখানে শনিবার রাতে একটা বাড়ি ছাড়া কোনো বাড়ি ভাঙচুর হয়নি। মাগুরা সদর থানা ও পুলিশ লাইনস রিজার্ভ ফোর্স থেকে ৫০ জনসহ ডিবি পুলিশ নিয়ে এ গ্রামের সব জায়গায় টহল দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেশী জিয়াউর রহমান বলেন, এটি গোষ্ঠীগত রেষারেষি। এক পক্ষ জোয়ার্দ্দার, অন্য পক্ষ খাঁ গোষ্ঠী। তবে হত্যাকাণ্ডের পর থেকে অভিযুক্ত তাহাজ্জত মেম্বারের কোনো লোক বাড়িতে নেই।
নিহত জায়েদ জোয়ার্দ্দারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা তখনও আহাজারি করছেন। বাড়িতে প্রতিবেশীরা ভিড় করেছেন।
নিহত জায়েদের ভাই সহিদ জোয়ার্দ্দার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, রাতেই মামলা দাখিলের কাজ শেষ হবে।
হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মুজাহারুল হক আখরোট জানান, মামলা এখনও প্রক্রিয়াধীন। মারা যাওয়ার আগে জায়েদ যাদের নাম বলে গেছেন তাদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে। পরে ইন্ধনদাতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে মঙ্গলবার থানা থেকে বিস্তারিত জানতে পারবেন।