বাগেরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:০২ পিএম
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২০:৪৭ পিএম
শনিবার বাংলাদেশে ভারতের প্রমোদতরি ‘গঙ্গা বিলাস’ ভ্রমণ উপলক্ষে কেক কাটেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। প্রবা ফটো
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ককে বন্ধুত্বের বিশ্বস্ত নিদর্শন হিসেবে আখ্যা দিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্ব অনেক পুরোনো। এটি একটি বিশ্বস্ত বন্ধুত্বের নিদর্শন।
ভারতের প্রমোদতরি ‘গঙ্গা বিলাস’ শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোংলা বন্দরের ৭ নম্বর জেটিতে পৌঁছনোর পর বন্দর কর্তৃপক্ষ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বন্দরে নোঙর করা প্রমোদতরিতে থাকা পর্যটকদের স্বাগত জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেকসহ মোংলা বন্দরের উচ্চপদস্থ কর্তারা।
তাদের স্বাগত জানানো শেষে সভায় নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহামুদ চৌধুরী বলেন, ‘গঙ্গা বিলাসের ভ্রমণ দুই দেশের বন্ধুত্বকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। প্রমোদতরিতে অনেক বিদেশি আছেন। তাদের মাধ্যমে দুদেশের বন্ধুত্বের গল্প বিশ্বের কাছে ছড়িয়ে পড়বে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এই নৌ ভ্রমণ। যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বেশি সুদৃঢ় করবে।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘গঙ্গা বিলাস রিভার ক্রুজ একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন, যা ভারত-বাংলাদেশ এবং এর জনগণকে সংযুক্ত করবে। এটা শুধু দুই দেশের পর্যটনের সম্ভাবনা উন্মোচন করার উপায় নয়, সংযোগ স্থাপনের একটি নতুন উপায়ও। যে নদীগুলো ঐতিহ্যগতভাবে ভারত ও বাংলাদেশকে সংযুক্ত করেছে গঙ্গা বিলাস ক্রুজ সেই সংযোগকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হবে।’
বাংলাদেশের কিছু ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানের মধ্য দিয়ে রিভার ক্রুজের ভ্রমণের বিষয়টি তুলে ধরে হাইকমিশনার আরও বলেন, ‘ক্রুজ এই স্থানগুলোকে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে নিয়ে আসবে এবং পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় অর্থনীতিকে উপকৃত করবে।’
গত ১৩ জানুয়ারি ভারতের বারাণসী গঙ্গার ঘাট থেকে যাত্রা শুরু করে এই বিলাসবহুল এই জাহাজ। এতে সুইস, জার্মান ও আমেরিকার ৩২ জন পর্যটক রয়েছেন। তাদের জন্য রয়েছে বিনোদনের ব্যাপক আয়োজন। রয়েছে শরীরচর্চা, রূপচর্চার কেন্দ্রও। ৮০ জন পর্যটক ধারণক্ষমতার বিলাসবহুল প্রমোদতরিতে রয়েছে মোট ১৮টি কেবিন।
দীর্ঘযাত্রার ক্রুজটি ভারতের পাঁচটি রাজ্য ও গঙ্গা, যমুনা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ ২৭টি নদী পাড়ি দেবে। সুন্দরবন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর ১৫ দিন এ দেশের জলপথ পাড়ি দেওয়ার কথা রয়েছে প্রমোদতরিটির। ৫১ দিনের সফর শেষে ভারতে প্রবেশ করবে গঙ্গা বিলাস। বাংলাদেশ হয়ে ভারতের ডিব্রুগড় পর্যন্ত এই জলযাত্রা বিদেশি পর্যটকরা উপভোগ করবেন।
বাংলাদেশের জলসীমায় জাহাজটিক সার্বিক সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। বাংলাদেশের নৌপথ অতিক্রমকালে জাহাজটিকে যথাযথ নিরাপত্তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পরে নৌপথে বরিশাল হয়ে, ঢাকার মেঘনা ঘাটে অবস্থান করে সোনারগাঁও ও ঢাকায় ভ্রমণ করবে এটি। বিভিন্ন দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী হয়ে ভারতে প্রবেশ করবে বলে জানিয়েছেন অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘এই নৌযানটি বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশের পর অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা নিরাপত্তা প্রদানের জন্য কাজ করেছে। সবকিছু মিলিয়ে তাদের সফর সুন্দর হয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের নৌপথের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাবে।’
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী বলেন, ‘সম্প্রতি মোংলা বন্দরে হয়ে ভারতের সঙ্গে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।’