মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:১৫ পিএম
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:২২ পিএম
মোংলা বন্দরের ৭ নম্বর জেটিতে নোঙর করে দীর্ঘযাত্রার প্রমোদতরি ‘গঙ্গা বিলাস’। প্রবা ফটো
ভারতের প্রমোদতরি ‘গঙ্গা বিলাস’ তিন হাজার ২০০ কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দেবে। এই যাত্রাপথে বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে এসে ভিড়েছে পাঁচ তারকা মানের জাহাজটি। শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে বন্দরের ৭ নম্বর জেটিতে নোঙর করে দীর্ঘযাত্রার প্রমোদতরিটি।
গত ১৩ জানুয়ারি ভারতের বারাণসী গঙ্গার ঘাট থেকে যাত্রা শুরু করে বিলাসবহুল এই জাহাজ। এতে সুইস, জার্মান ও আমেরিকার ৩২ জন পর্যটক রয়েছেন। তাদের জন্য রয়েছে বিনোদনের ব্যাপক আয়োজন। রয়েছে শরীরচর্চা, রূপচর্চার কেন্দ্রও। ৮০ জন পর্যটক ধারণক্ষমতার বিলাসবহুল প্রমোদতরিতে রয়েছে মোট ১৮টি কেবিন।
দীর্ঘযাত্রার ক্রুজটি ভারতের পাঁচটি রাজ্য ও গঙ্গা, যমুনা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ ২৭টি নদী পাড়ি দেবে। সুন্দরবন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর ১৫ দিন এ দেশের জলপথ পাড়ি দেওয়ার কথা রয়েছে প্রমোদতরিটির। ৫১ দিনের সফর শেষে ভারতে প্রবেশ করবে গঙ্গা বিলাস। বাংলাদেশ হয়ে ভারতের ডিব্রুগড় পর্যন্ত এই জলযাত্রা বিদেশি পর্যটকরা উপভোগ করবেন।
বাংলাদেশের জলসীমায় জাহাজটিক সার্বিক সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। বাংলাদেশের নৌপথ অতিক্রমকালে জাহাজটিকে যথাযথ নিরাপত্তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শনিবার মোংলা বন্দরে নোঙর করা প্রমোদতরিতে থাকা পর্যটকদের স্বাগত জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেকসহ মোংলা বন্দরের উচ্চপদস্থ কর্তারা।

এ সময় নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের যে সম্পর্ক এটা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রক্ত দিয়ে তৈরি করা। গত ৫০ বছর ধরে আমাদের এই সম্পর্ক আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই সম্পর্কটা অন্য রকম উচ্চতায় চলে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে বেশ কয়েকবার সফর করেছেন। এই সফরকে ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের উষ্ণতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘গঙ্গা বিলাস রিভার ক্রুজ একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন, যা ভারত-বাংলাদেশ এবং এর জনগণকে সংযুক্ত করবে। এটা শুধু দুই দেশের পর্যটনের সম্ভাবনা উন্মোচন করার উপায় নয়, সংযোগ স্থাপনের একটি নতুন উপায়ও। যে নদীগুলো ঐতিহ্যগতভাবে ভারত ও বাংলাদেশকে সংযুক্ত করেছে গঙ্গা বিলাস ক্রুজ সেই সংযোগকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হবে।’
বাংলাদেশের কিছু ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানের মধ্য দিয়ে রিভার ক্রুজের ভ্রমণের বিষয়টি তুলে ধরে হাইকমিশনার আরও বলেন, ‘ক্রুজ এই স্থানগুলোকে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে নিয়ে আসবে এবং পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় অর্থনীতিকে উপকৃত করবে।’
দীর্ঘযাত্রার প্রমোদতরিটি বিদেশি পর্যটকেরা মোংলা বন্দর ঘুরে যাবেন বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদে। এরপর বরিশাল ঘুরে চলে যাবেন মেঘনা ঘাটে। মেঘনা ঘাটে নোঙর করার পর দুই দিন সোনারগাঁও ও ঢাকায় ঘুরে দেখবেন তারা। ঢাকা ঘোরার পর টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ হয়ে যাত্রীরা কুড়িগ্রামের চিলমারীতে যাবেন। রংপুরের দর্শনীয় স্থানেও ভ্রমণের সুযোগ থাকছে তাদের। এরপর চিলমারী থেকে ভারতে প্রবেশ করবে গঙ্গা বিলাস।