ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:২৪ পিএম
আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:৩৭ পিএম
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আতাউর রহমান বুলবুল। প্রবা ফটো
অবশেষে নিজ ভূমে ফিরলেন জয়পুরহাটের আতাউর রহমান বুলবুল। দীর্ঘ ১৮ বছর পর বুলবুলের বাড়ি ফেরা নিয়ে পরিবারের ছিল না কোনো আনন্দ। থাকবেই বা কী করে, দেড় যুগ পর বুলবুলকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স। নিথর বুলবুলের এই ফেরা পরিবারের মাঝে শুধু আক্ষেপই রেখে গেল।
৫০ বছর বয়সী বুলবুল দীর্ঘদিন ফেনী জেনারেল হাসপাতালে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে চিকিৎসাধীন থেকে গত বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে মারা যান। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহায়-এর তত্বাবধানে চিকিৎসাকালীন ও মারা যাওয়ার পর বুলবুলের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিলে পরিচয় মেলে তার। মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে ২০০৬ সালে জয়পুরহাট থেকে ফেনী গিয়েছিলেন বুলবুল।
বুলবুলের ভাই রেজাউল করিম রিপন বলেন, ‘আমার ভাই বুলবুল ১৯৮৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। ২০০৬ সালে আমার পিতা আবদুস সাত্তার মাস্টারের মৃত্যুর পর হঠাৎ একদিন বুলবুল বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর পর বুলবুল ফেনীতে থাকার বিষয়টি জানতে পেরে আমরা তাকে আনতে যাই। কিন্তু তাকে অনেক জোর জবরদস্তি করেও আনতে পারিনি। এরপর থেকে যাতায়াতের দূরত্বের কারণে বছরের পর বছর আমরা তার আর কোনো খোঁজ পাইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত শুক্রবার ফেসবুকে ছবি দেখে আমাদের এক আত্মীয় বুলবুলের মৃত্যুর বিষয়টি আমাদের জানায়। আমার ছোট ভাই বড়াইল ইউপি সদস্য মশিউর রহমান লেবু ফেনী থেকে মরদেহ বাড়ি নিয়ে এসেছে। গতকাল রবিবার নিজ গ্রামে বুলবুলকে দাফন করা হয়েছে।’
এর আগে শনিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ফেনী সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা হয়। সেখান থেকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ জয়পুরহাটে আনা হয়।
জানা গেছে, প্রায় দেড়যুগ ফেনী শহরের অলিতে-গলিতে বিচরণ করেছেন বুলবুল। খাওয়া-দাওয়ায় আগ্রহ কম ছিল তার। দীর্ঘদিন ফেনী শহরে বিচরণ হলেও কখনো কাউকে বিরক্ত করতেন না বুলবুল। থাকতেন নিজের মত। রাস্তা-ঘাট, রেলপথ, বাসস্ট্যান্ডসহ ফেনী শহরের প্রায় সব স্থানেই ছিল বুলবুলের পদচারণা।
ফেনীর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহায়-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ দুলাল তালুকদার বলেন, ‘গত সপ্তাহে বুলবুল অসুস্থ হলে আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। মানসিক ভারসাম্যহীন এ ব্যক্তি দীর্ঘদিন ফেনী শহরে থাকলেও কেউ তার পরিচয় জানত না। গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে আমরা তার লাশ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্ধে পড়ি। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুলবুলের ছবি দিয়ে পরিবারের সন্ধান চেয়ে পোস্ট দেই। এরপর আমরা তার পরিচয় পাই। তার নাম আতাউর রহমান বুলবুল। তিনি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের আবদুস সাত্তার মাস্টারের ছেলে।’