বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:০৪ এএম
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:১৭ পিএম
ফাইল ফটো
চাকরি দেওয়ার কথা বলে অর্থ আত্মসাৎ ও পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ এনে ছয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে বরগুনার আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন আলাউদ্দিন হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি। পরে তাকেই উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি ছয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আলাউদ্দিন।
শিক্ষকরা হলেন—আমতলীর ১৬ নম্বর দক্ষিণ কেওরাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এসএম ছগির হোসেন বাবুল ও সহকারী শিক্ষিকা রাহিমা আক্তার; মহিষকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফরিদা আক্তার, শাখারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারুক হোসেন, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আলতাফ হোসেন ও পটুয়াখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সালমা বেগম।
এরা সবাই অভিযোগকারী আলাউদ্দিন হাওলাদারের সৎভাই ও ভাইদের স্ত্রী।
আলাউদ্দিনের অভিযোগ, চাকরির কথা বলে তার কাছ থেকে নগদ ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎসহ তার পৈতৃক জমি প্রতারণা করে দখল করেছেন ওই ছয় শিক্ষক। এ নিয়ে তিনি আদালতে গেলে উল্টো তার নামে একটি মিথ্যা মামলা করেন তারা।
আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, আমার বাবার সম্পত্তি আমার অধিকার। অথচ এ সম্পত্তি থেকে আমাকে বঞ্চিত করছেন আমারই সৎভাইয়েরা। তারা চক্রান্ত করে চাকরির কথা বলে এ প্রতারণা করেছেন। এ নিয়ে আদালতে গেলে উল্টো আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমি শিক্ষা অফিসারদের কাছেও অভিযোগ করেছি। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও সঠিক বিচার চাই।
এদিকে যোগাযোগ করা হলে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছয় শিক্ষক।
শিক্ষকদের মধ্যে আলতাফ হোসেন বলেন, যে ঘটনা নিয়ে মামলা হয়েছে তা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি আদালত তা খারিজ করেছেন। আর যেখানে ভাই ভাই সম্পর্কই নেই, সেখানে এত টাকা নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তা ছাড়া আমাদের এমন কোনো ক্ষমতাও নেই যে আমরা কাউকে চাকরি দেব।
পটুয়াখালীর ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মুহা. মুজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার নলেজে রয়েছে। তবে বিচারাধীন বিষয়ের ওপর আমার কিংবা শিক্ষা অফিসের হস্তক্ষেপ করা সমীচীন নয়।
বরগুনার শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি পারিবারিক এবং আদালতে মামলা চলমান। এ ব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারছি না।