ময়মনসিংহ অফিস
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:২৯ পিএম
আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:৩৮ পিএম
ল্যাম্বরগিনির আদলে গাড়ি তৈরি করেছেন ময়মনসিংহের আজিজ। প্রবা ফটো
ল্যাম্বরগিনি। নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে স্বপ্নের গাড়ির ছবি। ইতালিয়ান কোম্পানিটির গাড়ির যে উচ্চমূল্য, তাতে সাধারণের কাতারে কখনই ছিল না গাড়িটির ক্রেতা। স্টাইলিশ ও ভিন্নধর্মী ডিজাইন দিয়েও ক্রেতাদের মন কেড়েছে ল্যাম্বরগিনি।
স্বপ্নের সেই ‘ল্যাম্বরগিনি অ্যাভেন্টেডর এলপি-৭০০’ মডেলের গাড়ির আদলে গাড়ি তৈরি করে দেশে হইচই ফেলে দিয়েছেন আব্দুল আজিজ। পেশায় মোটর মেকানিক আজিজের বাড়ি নগরীর শম্ভুগঞ্জে।
‘ল্যাম্বরগিনি অ্যাভেন্টেডর এলপি-৭০০’ ইতালিয়ান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ল্যাম্বরগিনির তৈরি বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ও জনপ্রিয় স্পোর্টস কার। সেই গাড়ির আদলে আজিজ তৈরি করেছেন গাড়ি।
গাড়িটির হেডলাইট, টেইল লাইট, বডি ডিজাইন, সিটের গড়ন তৈরি করা হয়েছে অ্যাভেন্টেডরের মডেলের মতো করে। এমনকি আসল ল্যাম্বরগিনি গাড়ির দরজাগুলোর মতো এ গাড়ির দরজা তৈরি করা হয়েছে।
আব্দুল আজিজ নগরীর মাসকান্দা এলাকার শাহাদাত মোটর ওয়ার্কশপে মেকানিক হিসেবে কাজ করেন। কাজের ফাঁকে প্রায় ১৫ মাসের চেষ্টায় তৈরি হলুদ রঙের ১৫০০ সিসির এ গাড়ি তৈরি করেন।
গাড়িটির গতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। ১১ লাখ টাকা ব্যাংক লোনসহ ১৫ লাখ টাকা খরচ করে আজিজ নিজের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
এজন্য তাকে কিনতে হয়েছে পুরনো একটি টয়োটা স্টারলেট মডেলের গাড়ি। পরে তিনি সে গাড়ি কেটে ল্যাম্বরগিনি স্পোর্টস কারের আদল দেন।
আব্দুল আজিজ বলেন, ‘মোটর ওয়ার্কশপে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার ২৫ বছরের। ঢাকায় ২১ বছর কাজ করার পর চার বছর ধরে ময়মনসিংহের ওই ওয়ার্কশপে কাজ করছি। হঠাৎ মাথায় আসে স্পোর্টস কার তৈরির বিষয়। ইউটিউব দেখে এ রকম গাড়ি তৈরিতে আগ্রহ বেড়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে গাড়িটি তৈরির কাজ শুরু করি। তবে আমার প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই। হাতে-কলমে যা শিখেছি, ওস্তাদ যা শিখিয়েছেন সেই শিক্ষা থেকেই আমি এ উদ্যোগ নিই। আজ আমি এ গাড়ি তৈরি করে স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে সমর্থ হয়েছি।’
আজিজ জানান, টয়োটা স্টারলেট মডেলের একটি গাড়ি কিনে প্রথমে সম্পূর্ণ বডিটি কেটে ফেলেন। পরে ল্যাম্বরগিনির আদলে বানানো শুরু করেন। গাড়ি তৈরিতে গিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে তার পার্টস পেতে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এ ধরনের গাড়ি নেই। বডি তৈরিতে অনেক কষ্ট হয়েছে। এ কাজে ইমন নামে আমার এক সহকর্মী অনেক সহযোগিতা করেছে। এ ব্যাপারে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমি কোনো ব্র্যান্ডের নয়, আমাদের নিজস্ব ডিজাইনের গাড়ি তৈরি করতে পারব।’