মাদারীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৩ ০৯:০৬ এএম
আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:১৪ পিএম
শুক্রবার কালকিনিতে মিরাজ সরদারের বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। প্রবা ফটো
মাদারীপুরের কালকিনিতে
পুলিশের বিরুদ্ধে ১৭টি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,
শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) রাত ২টার দিকে কালকিনির এনায়েতনগর ইউনিয়নের খানকান্দি এলাকার
সাবেক ইউপি সদস্য মেসের সরদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,
মেসের সরদারের ছেলে মিরাজ সরদারকে গ্রেপ্তার করতে এসে ২০-৩০ জন পুলিশ সদস্য ১৭টি বসতঘরে
তল্লাশি করে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আলীনগর ইউনিয়নের
চেয়ারম্যান শাহেদ পারভেজের সমর্থকদের উসকানিতে এই ঘটনা ঘটিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার বিষয়ে মিরাজ সরদারের
স্ত্রী বলেন, ’২০-৩০ জন পুলিশ আইয়া দরজায় অনেক পিডাইছে। আমি
একা মহিলা দেখে খুলি নাই। পরে শাবল দিয়ে দরজা ভাঙিয়া খুইলা ঘরে ঢোকছে। আমার দরজা
খুলি নাই। ছেলে ভয়ে কাঁপতেছে। দরজা ভাঙার ভয়ে আমার দরজা পরে খুলছি। খোলার পর আমার
বালিশের তলে ৫০ হাজার টাকা, মোবাইল ও মিটার স্কেল নিয়ে গেছে। আমরা ডরে কাইন্না মরে
গেছি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
মিরাজ সরদার বলেন, ‘মিলন সরদারের ইটের ভাটায় এনায়েতনগরের ১০০-১৫০ লোকজন কাজ করে। শাহেদ
পারভেজ ওই ভাটা ও বাজারের ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ করে দিছে। আমি ওখানে যাই কেন? এইজন্য
আমি চারডা মামলা খাইছি। এক বছর আগে র্যাব আমাকে পায়ে গুলি করে। নয় মাস পর গুলি বের
করি বরিশাল গিয়ে। বাড়ি থাকতে পারি না প্রশাসনের কারণে। পুলিশ আমাকে মাইরা ফেলার হুমকি
দিছে। কীসের জন্য? আমার অপরাধ কী? জানতে চাই। এলাকার মেম্বার-চেয়ারম্যানকে জানাইছি,
তারা বলেছে ওসি এমপি সাহেবের মিটিংয়ে আছে। পরে গিয়ে আমরা তার (ওসি) সাথে কথা বলব।’
একই বাড়ির খুকিমনি বলেন,
‘পুলিশ কী কারণে আসছে, বলতে পারি না। এই ঘরে দরজা
অনেক পিডাইছে। আমার ঘরে অনেক পিডাইছে। আমার স্বামী বিদাস, ছেলে বিদাস। আমাগো ঘরে কোনো
লোক নাই। আমার দেবরকে ঘুম থেকে উঠাইছে। মিরাজ ভাইয়ের মেয়ে আমার সাথে ঘুমে ছিল। মিরাজ
ভাই সন্দেহ করে মুখ খুলে দেখে তারা।’
ওই বাড়ির শহীদুল সরদার
বলেন, ‘আলী নগরে গ্যাঞ্জাম। ওই গ্যাঞ্জামে আমরা চারটা
মামলার আসামি। শাহেদ পারভেজের সাথে কথা হয়েছে ওইখানে আমরা আর যাব না। আমরা চেয়ারম্যানের
কাছে বিচার দিছি। তখন থানার ওসি আমাদের ওপর খুব গরম ছিল। পরশু মোহাম্মদ তালুকদারকে
কোপাইছে আমরা শুনছি। আমরা ওইখানে যাই নাই। গতকাল রাতে আইসা কালকিনি থানার ওসির নির্দেশে
১৭টি বসতঘরে যার যা পাইছে টাকা ও মোবাইল লুটতরাজ করেছে। অকথ্য ভাষায় মহিলাদের গালাগালি করেছে।’
একই বাড়ির সুমা বলেন,
’৩০-৪০ জন পুলিশ এসে দরজা জানালা পারলে ভেঙে ফেলে। একজন লোক দেখলাম পোশাক ছাড়া অনেক খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করতেছে।’
বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হোসেন
অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, ‘একাধিক মামলার আসামি মিরাজ সরদারকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও মালামাল নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। মিরাজ একজন মাদক ব্যবসায়ী ও বিস্ফোরক দ্রব্য সাপ্লাই দেন এবং ফাঁসিয়াতলার ঘটনায় তিনি লিড দেন। মিরাজ তিন-চার কিলোমিটার এলাকা সোর্স মেইনটেইন করে চলেন এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন।’