নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:৪৩ এএম
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:৪৪ পিএম
নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের দুই ওয়ার্ডের সংযোগস্থল এই সেতু। প্রবা ফটো
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার একটি পর্যটন এলাকা নিঝুম দ্বীপ। যেখানে প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটকের সমাগম ঘটে। কিন্তু পর্যটকদের ভ্রমণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভেঙে পড়া স্থানীয় ছোয়াখালী সেতু। এ দ্বীপ ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ডের সংযোগস্থল সেতুটি প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে ভেঙে পড়লেও সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। এরপর সাময়িক চলাচলের জন্য পাশেই তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাঠের পুল এখন যাতায়াতের ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্বীপবাসী ও পর্যটকদের।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি জোয়ারের পানির স্রোতে নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগস্থল ছোয়াখালী সেতুটি ভেঙে যায়। পাশে কাঠের পুল নির্মাণ করা হলেও সেখানে মাঝেমধ্যে ঘটে দুর্ঘটনা। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই এ পথে যাতায়াত করতে হয় নিঝুম দ্বীপে ঘুরতে আসা পর্যটক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের। তিন বছরের বেশি সময় পার হলেও সেতুটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
দ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহিন খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলার কারণে এখনও সেতুটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। পাশে একটি কাঠের পুল নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সেখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। কিছুদিন সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল।’
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মিলাদ হোসেন বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে পড়ার পর অনেক দিন নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। পরে এলাকার চেয়ারম্যান বিকল্প কাঠের পুল নির্মাণ করে দেন। কিন্তু সেটি দিয়ে যাত্রী বহন করা যায় না। যাত্রী নামিয়ে দিয়ে খালি অটোরিকশা পার করতে হয়।’
ওই কাঠের পুলটি ইউপি চেয়ারম্যান মো. দিনাজ নিজ অর্থায়নে নির্মাণ করে দিয়েছেন বলে জানান স্থানীয় মুরাদ মাঝি। তিনি বলেন, ‘এটি দিয়ে ভারী জিনিস পার করা যায় না। এই পুলের গোড়ায় গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে পার হতে হয় পর্যটকদের। শুনেছি ভেঙে পড়া সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা হবে। কিন্তু এখনও উদ্যোগ দেখছি না।’
নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আফছার দিনাজ বলেন, ‘অতিরিক্ত স্রোতের প্রভাবে সেতুটি ভেঙে যায়। আমাদের সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউসের মাধ্যমে এখানে গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি টেন্ডার হবে।’
হাতিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুব মোর্শেদ লিটন বলেন, ‘নিঝুম দ্বীপে কোনো বেড়িবাঁধ নেই। জোয়ার হলেই এখানে পানি প্রবেশ করে। ছোয়াখালী সেতু পুনর্নির্মাণে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বিষয়টি জানিয়েছি।’
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে পড়ায় স্থানীয়দের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তবে আনন্দের বিষয় হচ্ছে সেখানে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে। আশা করি আগামী এক-দেড় মাস পর সেতুটি নির্মাণ কাজের আদেশ পাব।’