বরিশাল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৮:৫৬ পিএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:১৬ পিএম
শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালের করিডোর, বারান্দা ও মেঝেতে রেখেই শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ছবি : প্রবা
তীব্র ঠাণ্ডার মধ্যে বরিশালে গত এক সপ্তাহে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালের করিডোর, বারান্দা ও মেঝেতে রেখেই শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি শীতের তীব্রতা বাড়ার কারণে শিশুরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু। ফলে এই ওয়ার্ডে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। সংকট নিরাসনে সার্জারি ওয়ার্ডে রেখেও শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ সুপ্তি রায় জানান, এক সপ্তাহে নিউমনিয়ায় আক্রান্ত সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশু ইউনিটের তিনটি ওয়ার্ড এবং আইসিইউ মিলিয়ে মোট ৮০০ রোগী ভর্তি আছে, যদিও এখানে শয্যা সংখ্যা মাত্র ১০৭টি।
সুপ্তি রায় আরও বলেন, রবিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে সোমবার দুপুর পযর্ন্ত মোট ১৬৭ শিশু নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজানিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এই ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। বেড সংকটের জন্য এক বেডে দুই থেকে তিন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, যাদের বেড দেওয়া সম্ভব হয়নি তাদের ফ্লোরে ও বারান্দয় বিছানা বিছিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা নিতে আসা ফারহা বেগম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘তিন দিন হয়েছে শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু বেড না পাওয়ায় ফ্লোরে রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ফ্লোরে রাখলে শিশুর ঠান্ডা লাগতে পারে। তাই বেশির ভাগ সময় কোলেই রাখি।’
শ্বাসকষ্টে আক্রন্ত শিশুর বাবা আব্দুস সত্তার বলেন, ‘বেড সংকটের বিষয়টি আমরাও দেখতে পারছি। এ জন্য আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। তবে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্স ছাড়া বড় চিকিৎসকদের তেমন একটা দেখা যায় না।’