দিনাজপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১৮:৫২ পিএম
আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:৫৯ পিএম
দিনাজপুরে মহারাজা স্কুল ট্র্যাজেডি দিবস পালিত
দিনাজপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহারাজা স্কুল ট্র্যাজেডি দিবস। শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) সকালে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে চেহেলগাজী মাজারে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিতে ও মহারাজা গিরিজানাথ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান, দিনাজপুর ৬ জানুয়ারি ট্র্যাজেডি স্মৃতি পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দিনাজপুর প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন।
মহারাজা গিরিজানাথ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ স্মৃতিসৌধে আরও শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি দিনাজপুর জেলা শাখা, আদর্শ মহাবিদ্যালয়, কলেজিয়েট গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দিনাজপুর অ্যাকাডেমি, জুবিলি উচ্চ বিদ্যালয়, আল-আমিন ইনস্টিটিউট, সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আল-আমিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সাত নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
পরে ৬ জানুয়ারি স্মৃতি পরিষদ দিনাজপুরের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি ও দিনাজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল হক ছুটুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুলতান কামাল উদ্দিন বাচ্চু, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি দিনাজপুর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি আলতাফ হোসাইন, অ্যাড. মেহেরুল ইসলাম, বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব তারেকুজ্জামান তারেক, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সহিদুল্লাহ, কবি নিরঞ্জন হিরা, অ্যাড. রেয়াজুল ইসলাম রাজু, বাসদ নেতা সারওয়ার ক্লিপ্টন, বৈকালী নাট্যগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক কাশী কুমার দাস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম নাজু, নাট্য সমিতির আবুল হান্নান চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রদীপ ঘোষ, ভৈরবীর সাধারণ সম্পাদক রহমতুল্লাহ রহমত, সমাজসেবক বিধান চক্রবর্তী বাসু, কবি তুষার শুভ্র বসাক প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭২ সালের এই দিনে মহারাজা গিরিজানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী মুক্তিযোদ্ধা ট্রানজিট ক্যাম্পে ভয়াবহ মাইন বিস্ফোরণে শহীদ হন ৫ শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাদের স্মরণে প্রতিবছর আমরা ভয়াবহ ৬ জানুয়ারি দিবসটি পালন করে আসছি। আমাদের প্রাণের দাবি, দিবসটি জাতীয়ভাবে পালন করা হোক। এজন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে আমরা চাই দিবসটির ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে তুলে ধরা হোক। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেদিনের ভয়াবহ ঘটনা সর্ম্পকে জানতে পারে, তাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত হয়। এ ছাড়া আমরা স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করার চেষ্টা করছি। মহারাজা উচ্চ বিদ্যালয় ৬ জানুয়ারির স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হচ্ছে। সেটা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের এই দিনে গিরিজানাথ উচ্চ বিদ্যালয় মুক্তিযোদ্ধা ট্রানজিট ক্যাম্পে ভয়াবহ মাইন বিস্ফোরণে ৫ শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মর্মান্তিকভাবে শহীদ হন। গুরুতর আহত হয়ে অসংখ্য বীর মুক্তিযোদ্ধা পঙ্গুত্ব বরণ করেন। তাদের স্মরণে দিনটি প্রতিবছরই যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত আসছে।