ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:৩২ পিএম
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:২৬ এএম
উকিল আবদুস সাত্তারের কুশপুত্তলিকা দাহ করছেন বিক্ষুব্ধরা। ছবি : প্রবা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার পর বিএনপি থেকে পদত্যাগ করা সাবেক এমপি উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়াকে নির্বাচনী এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (২ জানুয়ারি) বিকালে সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পৃথক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে দুই উপজেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
সরাইলে আবদুস সাত্তারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল লস্কর তপু। একই সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে আশুগঞ্জে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি শাহজাহান সিরাজ ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান।
উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সবশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দলীয় সিদ্ধান্তে গত ১১ ডিসেম্বর তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। ফলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করেন সংসদের স্পিকার। আসনটিতে ১ ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচন হবে।
জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগের ১৮ দিন পর ২৯ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য পদও ছাড়েন তিনি। একই সঙ্গে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও বিদায় নেন সাত্তার।
সংসদ ও দল ছাড়ার পর রবিবার (১ জানুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র কেনেন উকিল আবদুস সাত্তার। ওই দিন রাতেই তাকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানায় বিএনপি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
১৯৭৯ সালে প্রথমবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুস সাত্তার। পরে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির মনোনয়নে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটকে আসনটি ছেড়ে দিলে টেকনোক্র্যাট কোটায় তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ।