টাকার বিনিময়ে ফের পদ বাগানোর চেষ্টা!
নোমান মুন্না জয়
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে
জালাল সরকার। ফাইল ছবি
নরসিংদীর নজরপুর ইউনিয়ন বিএনপির রাজনৈতিক মানচিত্র এখন এক গভীর সংকটের মুখোমুখি সরগরম ‘চাঁদাবাজ’ ও ‘অত্যাচারী’ হিসেবে পরিচিত সাবেক আহ্বায়ক জালাল সরকারের পুনর্বাসনের গুঞ্জনে। দলের ভেতর শুদ্ধি অভিযান এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে, দলের নীতিনির্ধারকদের ‘ম্যানেজ’ করতে তিনি কোটি টাকার মিশন নিয়ে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার এই কর্মকাণ্ডে স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, নজরপুর ইউনিয়নের আহ্বায়ক জালাল সরকারের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে সকল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছিল। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ১ জানুয়ারি তিনি পুনরায় কমিটির দখল নেন। ৫ আগস্ট, ২০২৪-এর পরবর্তী সময়ে জালাল সরকার ও তার ভাই হেলাল সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রকট আকার ধারণ করে। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত ৫ জুন, ২০২৬ তারিখে সদর উপজেলা বিএনপি বিতর্কিত সেই আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে।
কমিটি বিলুপ্তির পর জালাল সরকারের অপকর্মের সবচেয়ে বড় দলিল সামনে আসে তার নিজের ঘর থেকেই। গত ২১ জুন, ২০২৬ তারিখে তার ছেলে জাহিদ সরকার ফেসবুক লাইভে এসে বাবা জালাল সরকার এবং চাচা হেলাল সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষের ওপর অমানবিক নির্যাতন এবং হত্যাকাণ্ডের (মার্ডার) সাথে জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন।
লাইভে তিনি আরও জানান, চাচা হেলাল সরকার নাগরিয়াকান্দি ব্রিজ সংলগ্ন বিনোদন কেন্দ্রে রমরমা দেহ ব্যবসা পরিচালনা করেন। এর সত্যতা যাচাইয়ে নরসিংদী জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট সেখানে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু অবৈধ রেস্টুরেন্ট সিলগালাও করেছিল।
জাহিদ সরকার স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রশাসনের কাছে তার বাবা ও চাচার এসব অপরাধের প্রমাণ দিতে তিনি প্রস্তুত আছেন।
বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় জালাল সরকার তার কলঙ্কিত ইমেজ ঢাকতে বিপুল অর্থ ছড়াচ্ছেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়। এলাকাবাসী ও নেতা-কর্মীদের শঙ্কা, অর্থের জোরে তিনি যদি পুনরায় নেতৃত্বে ফিরে আসেন, তবে নজরপুরে চাঁদাবাজির রাজত্ব ও অত্যাচারের মাত্রা পূর্বের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
নরসিংদীর সদর উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, “দল কখনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় দেয় না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপি সরকার চাঁদাবাজ সন্ত্রাসদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটুট রয়েছে। এছাড়া টাকা দিয়ে পদ বাগিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
এ সকল অভিযোগের বিষয়ে নজরপুর ইউনিয়নের সাবেক আহ্বায়ক জালাল সরকারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। ছেলের ফেসবুক লাইভের বিষয় জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলেকে মাদক সেবন করিয়ে এই ফেসবুক লাইভ করানো হয়েছে। গত ৩ মাস ধরে সে আমার বাসায় নেই, আমি এ বিষয়ে কিছু জানিনা।”
তৃণমূলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মতে, বিএনপি বর্তমানে যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির কথা বলছে, জালাল সরকারের মতো বিতর্কিত চাঁদাবাজসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত ব্যক্তিকে পুনর্বাসন করলে দলের ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ হবে। স্থানীয়দের দাবি- কোনো অবস্থাতেই যেন আর্থিক প্রলোভনে পড়ে কোনো অপরাধী, খুনি ও চাঁদাবাজকে দলে প্রশ্রয় দেওয়া না হয়।