১৭ বছরের রাজনৈতিক উত্থান-পতন
হাবিব ওসমান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
বিএনপির লোগো। ছবি: সংগৃহীত
একসময় ঝিনাইদহ-৪ (ঝিনাইদহ সদর আংশিক ও কালীগঞ্জ) আসনটি ছিল বিএনপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। দীর্ঘ সময় ধরে এ আসনে দলটির প্রভাব থাকলেও ২০০৮ সালের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে যায়। টানা ১৭ বছর আসনটি বিএনপির হাতছাড়া থাকে।
এ সময় দলীয় অভ্যন্তরীণ বিভক্তি, মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিরোধ, হামলা-মামলা, নেতা-কর্মীদের বহিষ্কার এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির রাজনীতিকে বারবার আলোচনায় নিয়ে আসে। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলীয় ভোট বিভক্ত হওয়ায় বিএনপির প্রত্যাশিত ফল আসেনি। এখনো উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
তৎকালীন বৃহত্তর যশোর জেলার অন্তর্গত থাকা অবস্থায় ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী মরহুম এবাদত হোসেন মন্ডল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসক মরহুম এইচ এম এরশাদের শাসনামলে এ আসনের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ চলে যায় জাতীয় পার্টির হাতে। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুস সাত্তার মিয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নুর উদ্দিন বিজয়ী হন।
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী প্রয়াত এম. শহিদুজ্জামান বেল্টু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি টানা চারবার এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করেন।
তবে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রয়াত আব্দুল মান্নানের কাছে পরাজিত হন শহিদুজ্জামান বেল্টু। সেই নির্বাচনের পর থেকেই দীর্ঘ ১৭ বছর আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। একই সঙ্গে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকান্ডেও ভাটা পড়ে। দলীয় নেতাদের দাবি, হামলা-মামলা, রাজনৈতিক চাপ ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে শহিদুজ্জামান বেল্টুর মাঠপর্যায়ে উপস্থিতিও অনেক কমে যায়।
দলের দুঃসময়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক প্রয়াত মাহবুবার রহমান এবং সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদের নেতৃত্বে একটি অংশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে শহিদুজ্জামান বেল্টুর অনুসারীরাও পৃথকভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যান। এর মধ্য দিয়েই উপজেলা বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য, কঠিন রাজনৈতিক সময়ে হামলা-মামলা উপেক্ষা করে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে মাহবুবার রহমান ও হামিদুল ইসলাম হামিদের অনুসারীরা সক্রিয় ছিলেন। পাশাপাশি সাবেক ছাত্রদলের একঝাঁক তরুণ নেতাও রাজপথের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলেই মনোনয়ন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন গ্রুপ ও লবিংয়ের কারণে সাংগঠনিক বিভাজন আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান বেল্টু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ, ব্যবসায়ী হারুন অর রশীদ মোল্ল্যাসহ আরও কয়েকজন। শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পান সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। তবে নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মরহুম আনোয়ারুল আজীম আনার।
নির্বাচনের সময় বিএনপির বিভিন্ন পক্ষ একসঙ্গে প্রচারণায় অংশ নিলেও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আবারও অভ্যন্তরীন বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপি কার্যত তিনটি পৃথক ধারায় বিভক্ত হয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে থাকে। একটির নেতৃত্ব দেন সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, অন্যটির নেতৃত্বে ছিলেন হামিদুল ইসলাম হামিদ এবং অপর অংশের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান বেল্টুর সহধর্মিণী মুর্শিদা জামান বেল্টু।
ত্রয়োাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শুরু হয় নতুন সমীকরণ। ত্রয়োাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির তিনটি পক্ষ থেকেই মনোনয়নের প্রত্যাশা ছিল। তবে দলীয় হাইকমান্ড স্থানীয় কোনো নেতাকে মনোনয়ন না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে।
এ সিদ্ধান্তে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। মনোনয়ন না পাওয়ায় একাধিক নেতা ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত সাইফুল ইসলাম ফিরোজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। যদিও মুর্শিদা জামান বেল্টু মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন এবং হামিদুল ইসলাম হামিদ দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র নির্বাচন করায় সাইফুল ইসলাম ফিরোজকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়লে দলীয় প্রার্থী রাশেদ খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ দুজনই পরাজিত হন। নির্বাচনে বিজয়ী হন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব।
বর্তমানে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। একদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বহিষ্কৃত অনেক নেতা-কর্মীর বহিষ্কারাদেশ এখনো বহাল রয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিনেও উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা দেখা দিয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, বর্তমান নেতৃত্বে থাকা নেতারা নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত নেতারাও মূল দলে ফিরে আসার আশার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মীর মতে, দীর্ঘদিন কমিটি না থাকা এবং অভ্যন্তরীণ বিভক্তি অব্যাহত থাকলে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, ঝিনাইদহ-৪ আসনের জনগণের অনুরোধেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। নির্বাচনে বিএনপির একটি বড় অংশ তাঁকে সমর্থন দিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, দলের বাইরে নির্বাচন করলেও তিনি বা তাঁর সমর্থকরা অন্য কোনো দলে যোগ দেননি।
তিনি বলেন, যাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, তাকে সাধারণ ভোটাররা গ্রহণ করেননি। সেই বাস্তবতার প্রতিফলনই নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে। আমি শুরু থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুসরণ করে রাজনীতি করে আসছি। দলের দুঃসময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে থেকেছি। আমি বিশ্বাস করি, দল আমাকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে পারতাম।
তিনি আরও বলেন, তাকে সমর্থন করায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মী বহিষ্কৃত হয়েছেন। তবে তারা কেউই অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেননি। দলের কাছে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে সবাইকে আবার দলীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অপরদিকে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হযে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক জীবনে কখনো দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাননি বলেও দাবি করেন তিনি।
হামিদুল ইসলাম হামিদ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে, এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু মনোনয়ন না পাওয়ার পরও আমি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে আন্তরিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছি।
নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঝিনাইদহ-৪ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু দলের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ভোট বিভক্ত হয়েছে। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়ী হতো বলে আমি বিশ্বাস করি।
দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নেতাদের পুনরায় দলে ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ দলীয় নীতিনির্ধারণী বিষয়। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, বিএনপির শক্তি ঐক্যে এবং দলকে আরও শক্তিশালী করতে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রসঙ্গে হামিদুল ইসলাম হামিদ বলেন, দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হলে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও সমন্বয় বাড়বে।
গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নির্বাচনে তার পরাজয়ের পেছনে কয়েকটি কারণ ছিল। তিনি জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি। পাশাপাশি ২০১৮ সালের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় এবং দলের কিছু নেতা-কর্মীর অসহযোগিতার কারণে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।
তবে তিনি বলেন, আমি কাউকেই দোষ দিতে চাই না। ভাগ্যে যা ছিল তাই হয়েছে। অতীত ভুলে এখন আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
উপজেলা বিএনপির কমিটি প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, নির্বাচনের আগে স্থানীয় দুইজন মনোনয়ন প্রত্যাশীকে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সর্বশেষ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও তারেক রহমান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।
রাশেদ খান বলেন, যারা সত্যিকার অর্থে বিএনপিকে ভালোবাসেন, তারা সবাই বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের জন্য কাজ করুন। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। উপজেলা বিএনপির কমিটির বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এদিকে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জেলার প্রতিটি উপজেলায় বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করাই দলের লক্ষ্য। তবে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কমিটির বিষয়ে এখনো দলীয় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
তিনি বলেন, ত্রয়োাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁদের অসহযোগিতার কারণেই দলীয় প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
জাহিদুজ্জামান মনা আরও বলেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন রয়েছে। এ মুহূর্তে উপজেলা কমিটি গঠনের বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।
তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, যারা প্রকৃত অর্থে বিএনপি করেন এবং দলকে ভালোবাসেন, তারা সব ধরনের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করুন। দলীয় নির্দেশনা এলেই কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।