ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি
ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে
ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। প্রবা ফটো
ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে (পবিস) মিনি ঠিকাদার সাময়িক তালিকাভুক্তিকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের দাবি, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) নির্দেশনা উপেক্ষা করে গোপনে মাত্র ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অথচ প্রাথমিকভাবে অনুমোদন পাওয়া ১৭২টি প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
জানা যায়, স্বল্পদৈর্ঘ্যের বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেডেশন কাজের জন্য ২০২৫ সালের ৬ মে মিনি ঠিকাদার প্রাথমিক তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ঠাকুরগাঁও পবিস। ১৫ মে পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ১৭৬টি আবেদনের মধ্যে ১৭২টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক অনুমোদন দেয় রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়। একই সঙ্গে অনুমোদিত সব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গ্রহণ করে সাময়িক তালিকাভুক্তির প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নির্দেশনা অনুসরণ না করে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকে কোনো নোটিস দেওয়া হয়নি এবং অনেকের কাগজপত্রও গ্রহণ করা হয়নি। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মাত্র ৩১টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা রংপুরে পাঠানো হয়। রংপুর জোন থেকে সব অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পাঠাতে পুনরায় নির্দেশ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তীতে আরও আটটি প্রতিষ্ঠান যুক্ত করে মোট ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক তালিকাভুক্ত করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদারদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুতের কয়েকজন কর্মকর্তা ও পূর্বে তালিকাভুক্ত কিছু ঠিকাদারের সমন্বয়ে গঠিত একটি সিন্ডিকেট পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাদের অভিযোগের তীর তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান, ডিজিএম (কারিগরি) মো. লুৎফুল হাসান সরকার এবং এজিএম (ইঅ্যান্ডসি) নাহিদ ইসলামের দিকে।
আরাফাত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এনামুল হক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করেও তিনি তালিকাভুক্ত হতে পারেননি। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক তদবির ও সিন্ডিকেটের কারণে অনেক যোগ্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বঞ্চিত হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ইঅ্যান্ডসি) নাহিদ ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সমিতির তৎকালীন জিএম মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বলেন, সেখানে ইঞ্জিনিয়াররাই বিষয়টি দেখাশোনা করেন। আমি সেখান থেকে চলে আসার চার-পাঁচ মাস হয়ে গেছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ডিজিএম (কারিগরি) লুৎফুল হাসান সরকার বলেন, ঠিকাদার তালিকাভুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ হ্যান্ডেল করেন। এখানে আমার কোনো হাত নেই।
বর্তমান জিএম আশরাফুল আলম খান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ৩৯টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, মোট ১৭৬টি আবেদনের মধ্যে ১৭২ প্রতিষ্ঠানই প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছিল। পরে জিএম শাখা মাত্র ৩১টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পাঠায়। পরে আবারও প্রস্তাব পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হলে জিএম শাখা জানায়, নতুন করে কেউ কাগজ জমা দেননি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কোথাও কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা নেইÑ যারা প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত হয়েছেন, তারা যেকোনো সময় সাময়িক তালিকাভুক্তির জন্য কাগজপত্র জমা দিতে পারেন।