দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৫ ঘণ্টা আগে
ইউএনওর হস্তক্ষেপে সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে রবিবার রাস্তাটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের চর মাদার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত একটি রাস্তা বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের অবসান হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে রবিবার রাস্তাটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে মাটি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে চর মাদার গ্রামের বাসিন্দা নিমনত আলী স্থানীয়দের অবহিত না করেই পায়ে চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। এতে কয়েকটি পরিবারের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হয় এবং এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান ও ভূমি রেকর্ড যাচাই-বাছাই করে। তদন্তে দেখা যায়, শুধু রাস্তার অংশই নয়, নিমনত আলীর বসতবাড়ি ও আঙিনার একটি অংশও সরকারি খাস জমির ওপর নির্মিত হয়েছে।
এরপর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দখলকৃত সরকারি জমি থেকে রাস্তার অংশ ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জানিয়ে দেওয়া হয়, নির্দেশনা অমান্য করলে ভূমি অপরাধ প্রতিকার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তিনি রাস্তার জন্য দখল করা জায়গা ছেড়ে দেন। পরে চর আমখাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলামের উদ্যোগে সেখানে মাটি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
চর আমখাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম বলেন, “নিমনত আলী জোরপূর্বক পায়ে চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এতে ৩০টিরও বেশি পরিবারের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ইউএনও মহোদয়ের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে সমস্যার সমাধান হয়েছে। এখন এলাকাবাসী নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন। একই সঙ্গে সরকারি খাস জমিতে একটি স্বতন্ত্র রাস্তারও সৃষ্টি হয়েছে”।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, “জনগণের চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরকারি খাস জমিতে থাকা জনসাধারণের ব্যবহৃত পথ দখল করেছিলেন। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি দখল ছেড়ে দিয়েছেন। বর্তমানে সেখানে মাটি ভরাট করে স্থায়ীভাবে রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে”।