বরিশালে এক ব্যবসায়ীকে নির্যাতন করে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ছবি: ভিডিও থেকে
বরিশালের একজন ডেভলপার কোম্পানির চেয়ারম্যানকে মারধর ও নির্যাতন করে স্টাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তোভোগী আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
বরিশালে সামাজিকমাধ্যমে রবিবার সকাল থেকে একটি ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে এক ব্যবসায়ীর অফিস কক্ষে ঢুকে মারধর ও নির্যাতন করে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিতে দেখা যায় তিন ব্যক্তিকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্যাতিত ব্যাক্তি মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদার বাকলা ডেভলপারস প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও অগ্রীনি হাউজিং কোম্পানির এমডি।
নির্যাতনকারীরা হলেন, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু, আবুল কালাম আজাদ ও আ. মালেক দূরানী।
আব্দুল আজিজ হাওলাদার বলেন, তারা পূর্ব পরিচিত ও ব্যবসায়ীক পার্টনার। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর ও আবুল কালাম আজাদ বাকলা ডেভলপারস প্রাইভেট লিমিটেডের শেয়ার হোল্ডার ছিলেন।
তিনি বলেন, “২০২৩ সালে সমস্ত শেয়ার বিক্রি করে তারা দেনা পাওনা বুঝে নেন। আর মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আ. মালেক দূরানী অগ্রীনি হাউজিং কোম্পানির সাথে জড়িত ছিলেন। কোম্পানিটিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “গত ২৭ জুন রাতে বাকলা ডেভলপারস প্রাইভেট লিমিটেডের অফিসে এসে আমাকে তারা মারধর করে। এ সময় তারা স্টাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেয়। পরে থানায় নিয়ে অভিযোগ দেয় টাকা পাওয়ার। সেই অভিযোগ অনুযায়ী সালিশের ব্যবস্থাও করা হয়। এর মধ্যে মারধরের কারণে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে সুস্থ হয়ে আদালতে মামলা করি। আমি এখনও ভয়ে আছি। তারা যেকোনো সময় আমার উপর হামলা করতে পারে। এ ঘটনায় আমি আদালতের দারস্থ হয়েছি এবং ন্যায্য বিচার আশা করি।”
মামলার আইনজীবী মো. আবদুল রশীদ খান বলেন, বাদীকে মারধর করে একটা লিখিত ও ব্লাঙ্ক চেক নেওয়া হয়েছে। ৬টা স্ট্যাম্প লিখিত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও আদালতে দেখানো মাত্র আদালত এফআইআর দিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনা সন্ত্রাসী কার্যক্রম।
এদিকে এ ঘটনার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু। তার দাব- পাওনা টাকা না পাওয়ায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘোষণা ঘটেছে। তিনি বলেন, “আব্দুল আজিজ হাওলাদার আমাদের পাওনা টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। আমরা পারিবারিক কষ্টে আছি। ফলে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে।”
এদিকে সামাজিকমাধ্যমের বেশি কিছু ভিডিওতে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে যুবদল নেতা বলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বরিশাল মহানগর ও জেলা যুবদল।
এ সময় কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এইচ এম তসলিম উদ্দিন জানান, যুবদলের সাথে কোনও সম্পৃক্ততা নেই মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর। দলের কমিটিতে থাকা তো দূরের কথা, কোনো মিটিং মিছিলেও আসেননি তিনি। যুবদলের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানান তিনি।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ বলেন, “আসামিদের ধরতে কাজ শুরু করেছি। দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”