সিলেট অফিস
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৫২ মিনিট আগে
সিলেট সদরে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে জিআর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কৃষি ও সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং টেকসই অবকাঠামোর মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
সিলেটে শনিবার পৃথক তিনটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
দিনের শুরুতে সিলেট সদর উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে জিআর কর্মসূচির আওতায় চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ এবং রাজারগাঁও জামিয়ুল উলুম মাদ্রাসা ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মন্ত্রী।
তিনি জানান, চলমান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রায় দুই হাজার উপকারভোগীর প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল এবং প্রায় ৭০০ জনকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নির্মাণাধীন তিন তলা বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রটি স্বাভাবিক সময়ে মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বন্যা বা অন্য যেকোনো দুর্যোগে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পৃথক কক্ষ, বাথরুমসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখা হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। এছাড়া সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন, নতুন রাস্তা নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও টিউবওয়েল স্থাপনে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনতে সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং খাল খনন কর্মসূচিও জোরদার করা হবে।
এর আগে সকালে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত। শুধু বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, বরাদ্দের শতভাগ কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পরিকল্পনার ঘাটতি ও বাস্তবায়নের দুর্বলতার কারণে অনেক প্রকল্প কাঙ্ক্ষিত সুফল দিতে পারে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। তবুও বাজেটে মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য পর্যায়ক্রমে এ দুই খাতে জাতীয় আয়ের (জিডিপি) পাঁচ শতাংশ করে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা।
মন্ত্রী আরও বলেন, সিলেটে নির্মিত স্বাস্থ্য অবকাঠামোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণের দোরগোড়ায় কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হবে।
পর্যালোচনা সভার মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সন্ধ্যায় নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট মহানগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও বিশুদ্ধ পানির সংকট সমাধানে একটি দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় নগরীর প্রাকৃতিক খাল পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার, পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা, উত্তরাঞ্চলে রিটেনশন পন্ড নির্মাণ এবং দক্ষিণ সুরমাসহ প্রয়োজনীয় এলাকায় নতুন কৃত্রিম খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব প্রকল্প ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে এবং নগরবাসী দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে।
তিনটি অনুষ্ঠানেই সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।