বগুড়ায় প্রতারণার শিকার ৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচজন শনিবারের পরীক্ষায় অংশ নেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বগুড়ায় বিশেষ ব্যবস্থায় সাতজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী শনিবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ছয়জন এবং সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
এর মধ্যে পাঁচজন শনিবারের পরীক্ষায় অংশ নেন। বাকি দুজনের কেবল ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা থাকায় তারা ওই পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়েও প্রবেশপত্র না থাকায় এসব শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননি। পরে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে বিশেষ ব্যবস্থায় তাঁদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়।
প্রবেশপত্র পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন, মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের মো. হাসর, সম্রাট সরকার, তৌহিদুর রহমান তামিম, মইনুর ইসলাম, অমিত হাসান ও সাব্বির হোসেন এবং চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের সুমাইয়া আক্তার।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণের টাকা কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের কাছে জমা দিলেও সেই অর্থ সময়মতো শিক্ষা বোর্ডে জমা দেওয়া হয়নি। ফলে তাঁদের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়নি এবং প্রবেশপত্রও ইস্যু করা হয়নি। এ কারণে তারা বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হারান।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যম, শিক্ষক এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, “বৃহস্পতিবারই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুক্রবার শিক্ষা বোর্ডে যাওয়ার নির্দেশনা পাই। সেদিনই ছয় শিক্ষার্থীর নিবন্ধন কার্ড সংগ্রহ করে বোর্ডে যাই। প্রয়োজনীয় কাজ শেষে ফিরে এসে তাদের বাড়িতে প্রবেশপত্র পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। শিক্ষাবান্ধব সরকারের কারণেই বিষয়টি দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়েছে”।
সরকারি এম এইচ কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব অধ্যাপক আবুল কালাম আসাদ বলেন, “মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ছয় শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র পেয়েছি। তাদের মধ্যে চারজন শনিবারের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। বাকি দুজনের শুধু ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা রয়েছে”।
বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ বলেন, “যারা এই প্রতারণার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে৷ আর সাতজন শিক্ষার্থীর এডমিট আসছে। প্রথম পরীক্ষা দিতে পারেনি তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নিতে বোর্ড থেকে নির্দেশনা আসবে”।