চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। ছবি: সংগৃহীত
খ্রিষ্টান ধর্মের সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট সম্প্রদায়ের দুই শিক্ষার্থী শনিবার রাতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন। ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে বিশেষ ব্যবস্থায় তারা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একই ব্যবস্থায় সারাদেশে মোট ১৬০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেবেন।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড জানায়, শনিবার নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৯টায় পরীক্ষার হলে প্রবেশ করলেও ধর্মীয় বিধিনিষেধের কারণে পরীক্ষায় অংশ নেবেন না ২ জন। প্রায় ৯ ঘণ্টা একটি কক্ষে অবস্থান করে সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যায় পরীক্ষার উত্তরপত্রে লেখা শুরু করবেন তারা।
রাত ১০টায় শেষ হবে তাদের পরীক্ষা। দুই শিক্ষার্থীর একজন নগরের হালিশহর ক্যামব্রিয়ান কলেজের ছাত্রী এঞ্জেলি সুয়ারি ত্রিপুরা। অন্যজন বান্দরবান থেকে পরীক্ষা দিচ্ছেন। এছাড়াও সারাদেশে মোট ১৬০ জন পরীক্ষার্থী এই দিনটিতে রাতে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি আছে। ধর্মীয় বিধান মেনে দুইজন শিক্ষার্থী রুটিন অনুযায়ী শনিবার রাতে পরীক্ষা দিবে। তিনি বলেন, দুই বছরে শিক্ষাবর্ষ শেষ করতে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে এবার শনিবারও পরীক্ষা রাখা হয়েছে, যাতে পরবর্তী সেশনের পরীক্ষা আরও এগিয়ে আনা যায়। এই পরীক্ষার্থীরা সকালে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হলে প্রবেশ করে একটা কক্ষে অবস্থান করবে। সূর্যাস্তের পর তাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে”।
বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষা (এইচএসসি) চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এই সময়ে ৬টি শনিবার পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে ৪ জুলাই হবে বাংলা (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র, ৮ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আবশ্যিক), ১৮ জুলাই ভূগোল (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, ২৫ জুলাই অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্র, ১ আগস্ট মনোবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র ও কৃষি (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র এবং ৮ আগস্ট ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্র ও শিশু বিকাশ দ্বিতীয় পত্র।
শিক্ষা বোর্ডের শর্ত অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টায় পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নির্দিষ্ট কক্ষে অবস্থান করতে হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের পর তাদের কাছে প্রবেশপত্র ছাড়া অন্য কিছু থাকবে না। কোনো অবস্থাতেই তারা কক্ষের বাইরে যেতে বা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। পরীক্ষা চলাকালে পরিদর্শক থাকবেন। পরীক্ষার্থীরা নিজেদের সঙ্গে শুকনো খাবার নিয়ে আসতে পারবেন।