টেকনাফ ও কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকায় পরপর কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
সীমান্তের ওপার মিয়ানমার থেকে বুধবার রাত ৯টার পর থেকে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসছে। সেই সঙ্গে শোনা যাচ্ছে যুদ্ধবিমানের শব্দও।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় কেঁপে উঠছে সীমান্তবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি, ফলে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সীমান্তঘেঁষা সাবরাং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, রাত ৯টার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে শাহপরীরদ্বীপসহ আশপাশের এলাকায় শব্দের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। এতে সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
টেকনাফের জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা দিল মোহাম্মদ দিলু বলেন, “কয়েকটি বিকট শব্দ টেকনাফ পর্যন্ত স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। নাফ নদীর দিক থেকে মাঝে মাঝে আগুনের ঝলকানিও দেখা যাচ্ছে, যা কিছুক্ষণ পর আবার নিভে যাচ্ছে। এতে স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে”।
স্থানীয়রা জানান, এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে আতঙ্ক বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “আজ রাত ৯টার দিকে মিয়ানমারের মংডু এলাকার সীমান্তের ওপারে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। ওই গোলাগুলির বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা যাচ্ছে, যার কারণে অনেক স্থানে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে। বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করতে আমি নিজেই সীমান্ত এলাকায় যাচ্ছি”।
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি। তবে প্রাথমিকভাবে জেনেছি শাহপরীরদ্বীপ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি চলছে”।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, “মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা গেছে। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়েছে”।
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও সীমান্ত এলাকায় একই ধরনের বিকট শব্দ শোনা গিয়েছিল।