ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
ধর্ষণের মামলায় আব্দুল মমিনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ১১ বছর আগে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি আব্দুল মমিনকে (৪১) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সংগৃহীত অর্থ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর মঙ্গলবার দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মোমিন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ী এলাকার মৃত জালাল বৈরাগী ওরফে প্রামাণিকের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাতে রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ী এলাকায় নিজ বাড়িতে একা পেয়ে ওই বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করে আব্দুল মোমিন। এ সময় কিশোরীর মা ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেললেও মোমিন কৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় রাণীশংকৈল থানায় একটি মামলা করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত নির্দেশ দেন, অর্থদণ্ডের পুরো দুই লাখ টাকা ভুক্তভোগী কিশোরীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে এই ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করার জন্য জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মামলার অন্য আসামি এরশাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে মামলা থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর পাওয়া এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক বলেন, “দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে”।