বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ১৩ ঘণ্টা আগে
ডা. সামির হোসেন মিশু। ফাইল ছবি
বগুড়ায় বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) জেলা শাখার সভাপতি ডা. সামির হোসেন মিশু জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন।
বগুড়া জেলা কারাগার থেকে সোমবার সকালে মুক্ত হন তিনি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তানজীম আল মিজবাহ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, রবিবার বগুড়া জেলা জজ আদালতে ডা. মিশুর জামিন আবেদন শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক কৌশিক আহমেদ তার জামিন মঞ্জুর করেন।
বগুড়ার কোর্ট ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম জানান, ডা. সামির হোসেনের জামিন হয়েছে। তবে তিনি কারামুক্ত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার কাছে তথ্য ছিল না।
গত ২৩ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা সদরের ‘মকটেল’ নামে একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁ থেকে ডা. সামির হোসেনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে বগুড়া সদর থানায় দায়ের হওয়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ঘটনায় ডা. মিশুর মুক্তির দাবিতে পিনাকী ভট্টাচার্যসহ অসংখ্য মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি করেন।
শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মইনুদ্দিন সে সময় সাংবাদিকদের বলেন, শেরপুর সদরের ওই রেস্তোরাঁয় এক চিকিৎসকের জন্মদিন উপলক্ষে পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে অংশ নিতে বগুড়া থেকে যান ডা. সামির হোসেন।
খবর পেয়ে বিএনপির কিছু সমর্থক রেস্তোরাঁটির সামনে জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ তাকে নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাকে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয় বলে জানান তিনি।
ডা. সামির হোসেন বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বগুড়া সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর তাকে বাগেরহাট সরকারি মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলে (ম্যাটস) প্রশিক্ষক হিসেবে বদলি করা হয়।
বগুড়ায় দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় স্থানীয়ভাবে তিনি ‘গরিবের ডাক্তার’ নামে পরিচিত।