চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬ ১৫:৩৩ পিএম
চট্টগ্রামে সদরঘাট ইমাম বাড়ি থেকে শুক্রবার সকালে ইমাম হোসেনের স্মরণে তাজিয়া মিছিল বের করা হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
চট্টগ্রামে হজরত ইমাম হোসাইনের (রা.) কারবালার প্রান্তরে শাহাদাতের হৃদয়বিদারক ঘটনার স্মরণে তাজিয়া মিছিল করেছে ‘শিয়া ইমামিয়া ইসনা আশারা’ মুমিনবৃন্দরা।
নগরের সদরঘাট ইমাম বাড়ি থেকে শুক্রবার সকালে শোক মিছিল বের হয়।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাওলানা আমজাদ হোসেন এতে নেতৃত্বে কালো পোশাক পরে, খালি পায়ে শত শত নারী, শিশুসহ নানা বয়সীরা মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় দেখা যায়, শোকাবহ কারবালার নানা ঘটনাবলি তাজিয়া, প্রতীকী কফিন, পতাকা, স্লোগান, মাতম ও কথামালা তুলে ধরেন তারা।
মিছিলে ইমাম হোসেনের স্মরণে বিভিন্ন স্লোগান দিতেও দেখা যায়।
মিছিলি ‘আখেরি সালাম লও ওহে নানাজান, তোমারি হোসেন যায় কারবালা ময়দান’সহ ধর্মীয় নাত, গজল পরিবেশন করে যুবকরা মাতম করেন।
মিছিলটি কালীবাড়ি মোড়, নিউমার্কেট মোড়, কোতোয়ালী মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইমাম বাড়িতে ফিরে যায়।
সেখানে দিনব্যাপী শিয়াদের চিরায়ত ঐতিহ্য অনুযায়ী আচার-অনুষ্ঠান, আলোচনা আর প্রার্থনা শুরু হয়েছে।
মিছিলে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন বলেন, ১০ মহররম হৃদয়বিদারক ঘটনা। ইমাম হোসাইন সপরিবারে কারবালার মরু প্রান্তরে শহিদ হয়েছেন।
আজ আমরা আমাদের বাচ্চাকে নিয়ে হাঁটছি কিন্তু সেদিন ছয় মাসের সন্তানও রেহাই পাননি ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে, বলেন তারা।
তারা আরও বলেন, সেই স্মৃতি বুকে ধারণ করে আমরা সন্তানকে নিয়ে কারবালার জুলুসে এসেছি।
মিছিলে অংশ নেওয়া এক নারী বলেন, আজ ১০ মহররম। আমাদের পবিত্র আশুরা। কারবালায় শহিদ ইমাম হোসাইনের স্মরণে আমরা শোক পালন করছি।
ইসলামের জন্য, হক প্রতিষ্ঠার জন্য নবীজীর বংশধর জীবন দিয়েছেন। এমনকি ছোট্ট আলি আজগর পিপাসার্ত অবস্থায় শহিদ হয়েছেন, বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সে সময় যে নারীরা ছিলেন, তাদের ওপরও জুলুম করা হয়েছে।
মাওলানা আমজাদ হোসেন বলেন, শোকাবহ কারবালার ঘটনা স্মরণে আমরা প্রতিবছর ১০ মহররম তাজিয়া মিছিল বের করি।
কারবালার মহান আদর্শ আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং শান্তি, ন্যায় ও মানবতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে শিক্ষা দেয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জালেমের বিরুদ্ধে, জুলুমের বিরুদ্ধে, অত্যাচারীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন ইমাম হোসেন। তিনি মাথা দিয়েছেন, হাত দেননি। আত্মসমর্পণ করেননি।