নোয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:২৭ এএম
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:৪৯ পিএম
পানের পরিচর্যা করছেন একজন চাষি। ছবি : প্রবা
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পান চাষ। তুলনামূলক কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় পান চাষে অনেকেই ঝুঁকেছেন। এতে বেকারদের কর্মসংস্থান হচ্ছে। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় খুশি চাষিরাও।
উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের দাশপাড়াসহ আশপাশ এলাকায় প্রচুর পানের বরজ গড়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এ এলাকার মাটি পান চাষের জন্য বেশ উপযোগী। তা ছাড়া স্থানীয়দের মূল জীবিকা আসে পান চাষ থেকে। বেশির ভাগ হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্র চাষিরা বংশপরম্পরায় এ পেশায় জড়িয়েছেন।
দাশপাড়ার পান চাষি নীরবচন্দ্র দাস বলেন, ‘৪০ থেকে ৪৫ বছর ধরে আমরা পান চাষ করছি। এখানে আগের চেয়ে পান চাষির সংখ্যা বেড়েছে। পাশাপাশি জমির সংখ্যাও বেড়েছে। পান উৎপাদনে কোনো ক্ষতিকর সার ব্যবহার করা হয় না। আগে মাটির ঘর ছিল, এখন টিনের ঘর হয়েছে। শুধু পান চাষ করেই আমরা লাভবান হয়েছি। আমাদের দুই ভাইয়ের ১৩০টি পানের বরজ আছে।’

সূর্যকুমারের বাড়ির হরিপদ চন্দ্র দাস ১৫ বছর ধরে পান চাষ করছেন। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন পান চাষ থেকে আসা লাভের টাকায়। পাশাপাশি ছেলেকে পড়াশোনা করাচ্ছেন তিনি।
হরিপদ চন্দ্র দাস বলেন, ‘মাটি ভালো হলে পানও ভালো হয়। হাতিয়ার পান হলো মিষ্টি ও সরস। খেতে মজা লাগে। বাইরে থেকে পান না এলে আমরা ভালো দাম পেতাম। বিভিন্ন সময় জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পানের বরজ। সরকার যদি সহযোগিতা করে তাহলে আমরা পান চাষিরা আরও ভালো করব।’
নয়ন চন্দ্র দাস নামে আরেক পান চাষি বলেন, ‘আগে এক ঘরে একজন পান চাষি থাকলেও এখন সে ঘরে চারজন পান চাষি আছে। যে বাড়িতে পাঁচজন পান চাষি ছিল সেখানে এখন বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ জন হয়েছে। দিন দিন পান চাষির সংখ্যা বাড়ছে। সরকার আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা করলে আরও লাভবান হতাম।’
নিমাই চন্দ্র শীল নামে আরেক পান চাষি বলেন, ‘হাতিয়ায় পান চাষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। যখন ঝড়-জলোচ্ছ্বাস হয় তখন সরকার আমাদের পাশে দাঁড়ায় না। সরকার যদি পাশে দাঁড়াত তাহলে চাষিরা আরও ভালো করত।’
পান চাষে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সহযোগিতা করছেন। পান ধুয়ে, গুছিয়ে বাজারে বিক্রি করতে নারীরা কাজ করছেন।
রীতা রানী নামে এক নারী বলেন, ‘আমি পান ভাঙি এবং গুছিয়ে দিই। স্বামী বাজারে নিয়ে বিক্রি করে। সেখান থেকে যা পাই তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে।’

হাতিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুব মোর্শেদ লিটন বলেন, ‘বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কৃষিবান্ধব সরকার যেকোনো পরিস্থিতিতে কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নিয়ে এবং বাজেট প্রণয়ন করে থাকে। উন্নত সার ও বীজের জন্য সরকার এ বছরও প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা ভুর্তকি দিয়েছে। হাতিয়ার চরকিংয়ের নির্দিষ্ট কিছু জায়গার মাটি পান চাষের উপযোগী। অন্য কোথাও পান চাষ হয় না। আমি কথা দিচ্ছি, কৃষি বিভাগের মাধ্যমে খবর নিয়ে পান চাষিদের সঙ্গে কথা বলে যা যা প্রয়োজন তা উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে করব।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নোয়াখালীর উপপরিচালক মো. শহীদুল হক বলেন, ‘নোয়াখালী জেলায় পান চাষ হচ্ছে ১২৪ হেক্টর জমিতে। প্রায় ৫৫২ জন চাষি পান চাষের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে সব থেকে বেশি হলো হাতিয়া উপজেলায়। পান চাষ অত্যন্ত অর্থকরী ফসল। দিন দিন এটি সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে হাতিয়ায় জোয়ারের সময় পান গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমি চেষ্টা করছি তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য বা ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন অনেকেই পান চাষে আগ্রহী হচ্ছে। আবাদ আরও বাড়বে বলে মনে করছি। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও পান রপ্তানি করে কৃষক লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ সব সময় পান চাষিদের পাশে আছে।’