চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৪ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলমের সঙ্গে জাইকার প্রতিনিধিদের মতবিনিময়।
চট্টগ্রাম ওয়াসা ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারিত্বের ফলে নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম। সোমবার (২২ জুন) চট্টগ্রাম ওয়াসা কার্যালয়ে জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, ২০০৬ সালে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের মাধ্যমে জাইকা ও চট্টগ্রাম ওয়াসার কার্যকর সহযোগিতার যাত্রা শুরু হয়। প্রকল্পের প্রথম ধাপে দৈনিক ১৪৩ মিলিয়ন লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগার, ৬৭ কিলোমিটার পাইপলাইন, দুটি বৃহৎ রিজার্ভার এবং একটি ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত দ্বিতীয় ধাপে আরও একটি ১৪৩ মিলিয়ন লিটার দৈনিক ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগার, নতুন রিজার্ভার, ওভারহেড ট্যাংক, ৭৫০ কিলোমিটার বিতরণ পাইপলাইন, ৫৯টি ডিস্ট্রিক্ট মিটারড এরিয়া এবং আধুনিক সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের ফলে চট্টগ্রাম ওয়াসার দৈনিক পানি উৎপাদন সক্ষমতা ৩৬০ মিলিয়ন লিটার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫০০ মিলিয়ন লিটারে উন্নীত হয়েছে। যা নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীতে দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন লিটার, যেখানে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন লিটারের ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগরায়ণের ফলে পানির চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্ণফুলী পানি শোধনাগার এলাকায় অতিরিক্ত ১০০ মিলিয়ন লিটার পানি শোধনের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য জাইকার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পাশাপাশি নগরীর পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নে চট্টগ্রাম ওয়াসা বিভিন্ন স্যানিটেশন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। জাইকার আর্থিক সহায়তায় কালুরঘাট ও বাকলিয়া এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় জাইকার অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় এবং ভবিষ্যতে স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট, আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং টেকসই নগর উন্নয়নে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সভায় চট্টগ্রাম ওয়াসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আমিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (টি অ্যান্ড পি সার্কেল) মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম, সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চীফ রিপ্রেসেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো, রিপ্রেসেন্টেটিভ হিদেকি ওসাওয়া এবং উপ-প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ বিন হোসাইন অংশ নেন।