শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে
শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালী খাল। প্রবা ফটো
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সরকারি খাল খননের পর মাছ ছেড়ে পুনরায় প্রভাবশালী মহলের দখলের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, খাল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার কথা থাকলেও খননকাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালী খালের একটি অংশে অবৈধ বাঁধ দিয়ে দখল নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের অনুমতিসাপেক্ষে, সুইডেন দূতাবাস ঢাকার অর্থায়নে সিএনআরএস-বিফরআরএল প্রকল্পের উদ্যোগে ২.২ কিলোমিটার খালটি খনন করা হয়। প্রায় ২৫ একর কৃষিজমির মধ্যে খালটি বয়ে গেছে। এতে এলাকার সাধারণ মানুষ খালটি উন্মুক্ত থাকবে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যক্তি খালের নির্দিষ্ট অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মাছের পোনা ছেড়ে খাল কঞ্চি দিয়ে দখল করেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালটি খনন করা হলে আগের দখলকারী ইসাক আলী পাড়ের নেতৃত্বে তার সহযোগী সুশান্ত সরদার, অরুণ সরদার, দীপাঞ্জন মণ্ডলসহ কিছু ব্যক্তি স্থানীয় মানুষদের হুমকি দিয়ে খাল খনন শেষের একটি অংশে কিছু রুই জাতীয় মাছের পোনা ছেড়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে। তারা শুকনো মৌসুমে কৃষি ফসল ফলাতে খালের পানিতে কৃষকদের ব্যবহার করতে দেন না।
ইসহাক আলী পাড়ের ভাষ্য, কোটে একটি ইনজেকশন আছে তার কাগজপত্র যতদিন রায়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি না হবে; ততদিন সম্পর্কের অবনতি যাতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখব। এ ছাড়া এ খালের মাছ বিক্রির আয় থেকে কিছু দলীয় ও একটি প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ যায়।
ইউপি সদস্য দেবাশিষ গায়েন বলেন, উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় প্রশাসন ইউনিয়ন পরিষদ সবার উদ্যোগে এই খালটি খনন করা হয়েছে। এ খালটি উন্মুক্ত রাখার জন্য আমরা সর্বাত্মককরণ চেষ্টা করছি।
ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান বলেন, দখলের বিষয়টা জানতে পেরে সরেজমিন তদন্ত করে দেখি, সরকারিভাবে খালটি খনন করার পর স্থানীয় প্রভাবশালীরা আবার দখল করে নিয়েছেন। ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।