কিশোরগঞ্জে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে ফল মেলা উদ্বোধনের পর মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। প্রবা ফটো
আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, জামরুল, সফেদা, পেয়ারা, বরই, কামরাঙা, জলপাইসহ দেশীয় নানা মৌসুমি ফলের সুগন্ধে মুখর হয়ে উঠেছে কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রাঙ্গণ।
সেই সঙ্গে স্থান পেয়েছে বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ফল ও আধুনিক উচ্চ ফলনশীল বিদেশি জাতের ফল। ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় ফলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কিশোরগঞ্জে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ফল মেলা।
‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে মেলার উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিণ।
এতে উপস্থিত ছিলেনÑ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক ইমন, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক রমজান আলী, কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন উপজেলার কৃষক ও ফলচাষি, কৃষি উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
উদ্বোধনের পর অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং প্রদর্শিত ফল, উন্নত জাতের চারা, আধুনিক ফল চাষ প্রযুক্তি ও সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। দর্শনার্থীদের ভিড়ে দিনভর প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।
ফল মেলা পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, এখানে এসে আমরা দেখতে পেয়েছি, তৈকর, ননী ফলসহ অনেক বিলুপ্তপ্রায় ও লোকজ ফল, যেগুলোর অনেকটাই আমরা আগে চিনতাম না। এই মেলার মাধ্যমে এসব ফল সম্পর্কে মানুষের জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং তাদের পুষ্টিগুণ সম্পর্কেও সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশীয় ফলের চাষাবাদকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া এবং মানুষকে পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। মেলার প্রতিপাদ্য বিষয় ‘করবো মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করবো বারো মাস’—যা অত্যন্ত সময়োপযোগী।