কুড়িগ্রামের বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে পানি ঢোকায় পাট, চীনাবাদাম, ভুট্টা ও মরিচের ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের ২০টি গেট খুলে দেওয়ার পর উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং বৃষ্টির প্রভাবে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এবং চার শতাধিক চরাঞ্চলের পাট, চীনাবাদাম, ভুট্টা ও মরিচের ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে সোমবার সকাল ৯টায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ২৪ দশমিক ৩৪ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা সকাল ৬টার তুলনায় ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে এটি এখনও বিপৎসীমার ১ দশমিক ৭১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবোর তথ্যমতে, নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২৪ দশমিক ২৭ মিটারে পৌঁছেছে, যা তিন ঘণ্টায় ২ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২১ দশমিক ৬৫ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দুটি পয়েন্টেই পানি বাড়লেও তা এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও জানানো হয়, পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানি ২৯ দশমিক ০৩ মিটারে স্থির রয়েছে। আর তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে পানি কিছুটা কমে ২৮ দশমিক ৮৬ মিটারে নেমেছে, যা তিন ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।
তালুক সিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলার পানি ২৯ দশমিক ৪৫ মিটারে নেমে ৫ সেন্টিমিটার কমেছে।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলো দ্রুত তলিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে আমন মৌসুমের আগের সময়ে আবাদ করা পাট, ভুট্টা, চীনাবাদাম ও মরিচক্ষেত ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
অনেক এলাকায় ঘরবাড়ির আঙিনায়ও পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে বলেও উল্লেখ করেন তারা।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, “জেলার অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনও কোনো পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
“তবে উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েকদিন পানি আরও বাড়তে পারে এবং স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।”
এদিকে, নদীভাঙন প্রবণ এলাকাগুলোতেও উদ্বেগ বাড়ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চরাঞ্চলের বাসিন্দারা সম্ভাব্য বন্যা ও ভাঙনের আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।