× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দেশি ফলে ভরছে দেশ, কম মূল্যে কৃষক শেষ

ফারুক আহমাদ আরিফ

প্রকাশ : ১০ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ৮ ঘণ্টা আগে

কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দেশে আম, কাঁঠাল, লিচুসহ দেশীয় ফলের চাষ ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে থানা, উপজেলা এমনকি গ্রামীণ বাজারেও এখন প্রায় সব ধরনের দেশীয় ফল পাওয়া যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের সাতক্ষীরার আম পৌঁছে যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের নেত্রকোণায়, রংপুরের লিচু মিলছে সিলেটের বাজারে। দেশের সীমানা পেরিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ফল রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারেও।

উৎপাদনে সাফল্যের পরও স্বস্তিতে নেই ফলচাষিরা। তাদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ বাড়লেও তারা ফলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। ফলে টিকে থাকতে অনেকেই ফলের পাশাপাশি অন্য ফসল চাষে ঝুঁকছেন।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত রাজধানীসহ সারা দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় ফলমেলা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট চত্বরে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করবেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও ফলের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে হিমসাগর আম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি, হাঁড়িভাঙা আম ৯০ থেকে ১২০ টাকা, কাউফল ১৮০ টাকা, কাঠলিচু ২৫০ টাকা, ডেউয়া ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি। আকারভেদে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পিস এবং ১০০ লিচুর দাম ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইং আম, কাঁঠাল, জাম, লিচু, পেয়ারা, কলা, পেঁপে, নারিকেল, তরমুজ, বেল, শরিফা ও তেঁতুলসহ ৪৫ ধরনের ফলের আবাদ ও উৎপাদনের তথ্য সংরক্ষণ করে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৪ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয় এবং উৎপাদন হয় ২৫ লাখ ৮ হাজার ৯৭৩ মেট্রিক টন। একই সময়ে ৫৮ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল উৎপাদন হয় ১৮ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন এবং ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেয়ারা উৎপাদন হয় ৬ লাখ ১৩ হাজার মেট্রিক টন।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমের আবাদ বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫ হাজার ২৫ হেক্টরে এবং উৎপাদন হয় ২৬ লাখ ৬২ হাজার মেট্রিক টনের বেশি। এ সময়ে ৫৮ হাজার ৯১৭ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল উৎপাদন হয় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এবং ৩৩ হাজার ২২২ হেক্টর জমিতে পেয়ারা উৎপাদন হয় ৬ লাখ ৬৪ হাজার মেট্রিক টনের বেশি।

তবে উৎপাদন বাড়লেও লাভের মুখ দেখছেন না অধিকাংশ চাষি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উত্তম কৃষি চর্চার (গ্যাপ) মাধ্যমে সর্বাধিক আম উৎপাদনের স্বীকৃতি পাওয়া রাজশাহীর ফার্মিএগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকার বাজারে যে আম ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়, চাষিকে সেটি বিক্রি করতে হয় প্রায় ২০ টাকায়। এক বিঘা জমিতে আমের চারা রোপণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত খরচ হয় প্রায় দেড় লাখ টাকা। কিন্তু বিক্রিতে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যায় না। বিশেষ কিছু জাতের আমচাষি লাভবান হলেও অধিকাংশ কৃষক ক্ষতির মুখে রয়েছেন।

তিনি বলেন, দেশে প্রায় ২৭ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হলেও এর খুব অল্প পরিমাণ রপ্তানি হয়। পাশাপাশি আম থেকে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য তৈরির উদ্যোগও সীমিত। ফলে উৎপাদন বাড়লেও বাজার সংকট তৈরি হচ্ছে। অঞ্চলভেদে উপযোগী ফসল নির্বাচন করে চাষাবাদের পরিকল্পনা করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নওগাঁর বরেন্দ্র এগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সোহেল রানা বলেন, সার, সেচ, ব্যাগসহ উৎপাদন খরচ বাড়লেও ফলের দাম সে অনুযায়ী বাড়েনি। রপ্তানির ক্ষেত্রেও কার্গো সমস্যার কারণে বাধা তৈরি হচ্ছে। ভালো দাম না পাওয়ায় তিনি পেয়ারা, মাল্টা ও বরইয়ের বাগান বাদ দিয়ে আম চাষে ঝুঁকেছেন। তবে আম চাষেও প্রত্যাশিত লাভ হচ্ছে না।

তিনি বলেন, এ বছর অতিবৃষ্টির কারণে সময়মতো ব্যাগিং করা সম্ভব হয়নি। অনেক আমের গায়ে দাগ পড়ায় দাম কমে গেছে। প্রতিবছরই এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ফলে চাষিরা শুধু আশায় থাকেনÑ এ বছর না হলেও আগামী বছর লাভ হবে।

গ্লোবাল ট্রেড লিংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা রাজিয়া বলেন, ইউরোপে বাংলাদেশের আমের চাহিদা থাকলেও উচ্চ কার্গো ভাড়ার কারণে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভারত ও পাকিস্তান তুলনামূলক কম খরচে আম রপ্তানি করে বাজার ধরে রেখেছে। বাংলাদেশের এক কেজি আম রপ্তানিতে প্রায় ৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, যেখানে তাদের খরচ প্রায় ৪০০ টাকা। পাশাপাশি প্যাকেজিং ব্যবস্থার দুর্বলতাও বড় সমস্যা।

তিনি জানান, বিমান পরিবহনে পর্যাপ্ত জায়গা না পাওয়ায় অনেক সময় আম পাঠানো সম্ভব হয় না। এসব সমস্যা সমাধান না হলে চলতি বছর রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হতে পারে। তবে মালয়েশিয়ায় আম রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রপ্তানিযোগ্য আম প্রকল্পের পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, সরকার এখন খোরপোষের কৃষির পরিবর্তে রপ্তানিমুখী চাষাবাদে গুরুত্ব দিচ্ছে। উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে মানসম্পন্ন উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক ড. মো. হজরত আলী বলেন, তাদের মূল দায়িত্ব হলো উৎপাদন ও ফলের মান বৃদ্ধি করা। বাজারমূল্য মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে, যা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মানুষের বাড়তি চাহিদা পূরণে উন্নত জাত ও প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা