ফরহাদ সুমন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১১ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১১ ঘণ্টা আগে
গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
একের পর খুনের ঘটনায় আবারও আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা। সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বুলেটের কাছে থামছে একের পর এক জীবন। রাজনৈতিক হানাহানি, বালু ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তার, বিভিন্ন বিরোধের জেরে চলছে এই হত্যাযজ্ঞ। বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ডই হয়েছে প্রকাশ্যে জনসমক্ষে দিনদুপুরে। ১৬ মাস রাউজানে অন্তত ২০ জন খুন হওয়া ছাড়াও শতাধিক মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
হতাহতরা বেশিরভাগই বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের হাতে চুনোপুঁটিরা গ্রেপ্তার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। তবে পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান থেমে নেই। প্রত্যেক খুনের ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা
গেছে, রাউজানে ১৬ মাসে একাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। কখনও প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে, কখনও
ছুরিকাঘাত বা পিটিয়ে। এ সময় ২০ জন খুন হওয়া ছাড়াও শতাধিক মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছে। হতাহতরা
বেশিরভাগই বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী। খুনের ঘটনার দুটি উপজেলার নোয়াপাড়ায়, দুটি হলদিয়ায়,
তিনটি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে, একটি রাউজান সদরে, দুটি বাগোয়ানে, দুটি উরকিরচরে,
দুটি কদলপুরে, একটি চিকদাইরে, একটি পাহাড়তলীতে, দুটি পূর্ব গুজরায়, একটি মদুনাঘাট বাজারে
এবং রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে একটি সংঘটিত হয়েছে। নিহত ২০ জনের মধ্যে
অন্তত ১৪ জন রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
সূত্র আরও জানায়, গত ১৩ জুন
(শনিবার) দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা
করা হয় পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে (৪৫)। তিনি
উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ওই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান
মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরী গত সোমবার রাতে বাদী হয়ে রাউজান থানায় ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ
রায়হান, তার সহযোগী মেহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ মোবারক, দিদারুল আলম, মেহাম্মদ ইউসুফসহ
১১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন।
রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, মামলার এজাহারে নিহত যুবদলের নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী ইউনিয়ন
পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। এর জেরে তাকে খুন করা
হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন মামলার বাদী।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের
পর জাকির নামে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে চালান দিয়েছি। পরে তাকেও মামলায়
আসামি করা হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে কয়েকজনকে আগেই ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে
চিহ্নিত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান।
চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের
বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে
বলেন, সেদিনের ঘটনায় আশপাশে অনেক মানুষ ছিল। কিন্তু তারা কেউ এগিয়ে আসেনি। সেদিন এলাকাবাসী
এগিয়ে এসে যদি অস্ত্রধারীদের ঘেরাও করত, তাহলে তারা পালাতে পারত না। তবে সন্ত্রাসীদের
গ্রেপ্তার করতে পুলিশ থেমে নেই।
তিনি আরও বলেন, রাউজানে প্রত্যেক
খুনের ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। খুনের ঘটনায় পুলিশ সুপার মহোদয় উদ্বিগ্ন। অনেক অভিযানের
পরিকল্পনা রয়েছে, যা এ মুহূর্তে প্রকাশ করতে পারছি না। অপরাধ দমনে আমরা চেকপোস্ট ও
পুলিশের সংখ্যা বাড়িয়েছি।