বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬ ২২:৪৪ পিএম
আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬ ২৩:৩৯ পিএম
বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে ‘ভুয়া ও মানহানিকর তথ্য’ প্রচারের অভিযোগে করা মামলাটির এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গ্রাফিক্স: সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে ভুয়া, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে একটি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতে সোমবার বিকালে মামলাটি দায়ের করেন বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম।
শুনানি শেষে বিচারক মেহেদী হাসান অভিযোগটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার এবং বগুড়া প্রতিনিধি শামসকে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব বলেন, আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
পরবর্তী ধাপে মামলাটি সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হবে এবং আইন অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলেও জানান তিনি।
মামলার আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বাদী তানভীর আলমের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন।
আরও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন রাস্তাকাণ্ডে বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম’ শীর্ষক একটি পোস্ট প্রচার করা হয়, যা বাদীপক্ষের দাবি অনুযায়ী বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ ছাড়া ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সফরকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রী সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য প্রচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।
বাদী আবেদনে উল্লেখ করেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব তথ্য প্রচার করা হয়েছে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪ ও ১০৯ ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল ওহাব জানান, শুনানির সময় অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন শহলসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
শুনানি শেষে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের সম্পাদকসহ অন্য অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।