নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬ ১৯:৫৩ পিএম
আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬ ২০:০২ পিএম
নরসিংদীতে শিক্ষা কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে আর্থিক অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়েছে অসচ্ছল, মেধাবী ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা। যেখানে জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে ৭২ জন শিক্ষার্থী অনুদান পাবে, সেখানে মাত্র ৪ শিক্ষার্থী আবেদন করেছে।
এ ছাড়া কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ১১৫ শিক্ষার্থী অনুদান পাবে, সেখানে মাত্র ৩৫ শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। জেলার জন্য নির্ধারিত অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় আবেদন জমা পড়েছে অনেক কম, যা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অনুদানের জন্য আবেদন আহ্বান করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ আবেদনের বিপরীতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অনুদানের জন্য মাত্র চারজন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ৩৫ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। নরসিংদীতে জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলার শিক্ষা অফিসারদের গাফিলতিতে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের গাফিলতিও কম নয় বলে অভিযোগ করছেন অভিভাবকরা।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী জেলায় এ বছর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের অনুদানের জন্য ষষ্ঠ থেকে অষ্টম পর্যন্ত ২৪ জন, নবম থেকে দশম পর্যন্ত ১৮ জন, একাদশ থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত ১৮ জন এবং স্নাতক ও তদূর্ধ্ব ১২ জনসহ মোট ৭২ জন অনুদান পাবে। কিন্তু জেলার ৩১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র চার শিক্ষার্থী আবেদন করেছে।
অন্যদিকে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে অনুদানের জন্য এবতেদায়ি ১৯ জন, দাখিল/ এসএসসি (ভোকেশনাল) ৫৯ জন, আলিম/ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২৮ জন, ফাজিল/ কামিল/ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ৯ জনসহ মোট ১১৫ জন অনুদান পাবে। এর বিপরতীতে ৯৪৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন করেছে ৩৫ শিক্ষার্থী।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, জেলার ৬টি উপজেলার মধ্যে মাত্র ৩টি উপজেলা থেকে আবেদন এসেছে। বাকি ৩টি উপজেলা থেকে একজন শিক্ষার্থীও আবেদন করেনি। আবেদন না করার কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বলছে, স্কুলের শিক্ষকরা কোনো শিক্ষার্থীকে আবেদনের ব্যাপারে অবহিত করেননি।
সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক নরসিংদী জেলার সম্পাদক হলধর দাস বলেন, সংশ্লিষ্ট অফিসার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগণের গাফিলতিতে অনুদানযোগ্য শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেনি। বিষয়টি সম্পর্কে সব শিক্ষার্থীকে অবগত না করার কারণে নামমাত্র কয়েকজন শিক্ষার্থী আর্থিক অনুদানের জন্য আবেদন করেছে।
জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা জানান, শিক্ষার্থীদের অনুদানের ব্যাপারে আমরা জানি না। তাই শিক্ষার্থীদের এ ব্যাপারে অবহিত করতে পারিনি এবং আমাদের বিদ্যালয় থেকেও কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে পরবর্তীতে ব্যাপারটি খেয়াল রাখবেন বলেও অনেক স্কুলের প্রধান জানিয়েছেন।
নরসিংদী জেলা শিক্ষা অফিসার এএসএম আব্দুল খালেক বলেন, আর্থিক অনুদানের জন্য আবেদন করতে গ্রুপে চিঠি দেওয়াসহ প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বলা হয়। তবে যেসময় আবেদন শুরু হয়েছে, সেসময় সফটওয়্যারে সমস্যা ছিল। যার কারণে অনেকেই আবেদন করতে পারেনি। তবে অন্য জেলা থেকে আমাদের জেলায় বেশি আবেদন পড়েছে। সামনে যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা আরও সচেতন হন, সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নরসিংদী জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া জানান, বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। চাহিদার বিপরীতে এত কম আবেদন তো হওয়ার কথা না, এমনটা কেন হলো, তা জেনে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাবে ৮ হাজার টাকা, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাবেন ৯ হাজার টাকা এবং স্নাতক ও তদূর্ধ্ব শিক্ষার্থীরা পাবেন ১০ হাজার টাকা করে।