ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬ ১৪:৩১ পিএম
ধনবাড়ীতে পাট উৎপাদনকারী চাষিদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে । প্রবা ফটো
‘পাট শিল্পের অবদান স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ, সোনালী আঁশের সোনার দেশ, পাট পণ্যের বাংলাদেশ’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে পাট উৎপাদনকারী চাষিদের জন্য দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ধনবাড়ী মডেল মসজিদের হলরুমে সোমবার (১৫ জুন) পাট অধিদপ্তর কর্তৃক
বাস্তবায়নাধীন ‘উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ (২য় সংশোধিত)’
শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে পাট অধিদপ্তর ও ধনবাড়ী উপজেলা
প্রশাসন।
ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরজাহান আক্তার সাথী’র সভাপতিত্বে
অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি
কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী
ফসল। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উন্নতমানের পাট উৎপাদনের
মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি সম্ভব। এজন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি
ও চাষাবাদ পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশিক্ষণে জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আজমত আলী আকন্দ পাট চাষের
আধুনিক কলাকৌশল, উন্নত জাতের পাট ও পাটবীজ উৎপাদন, রোগবালাই দমন, পাট কাটা ও জাগ দেওয়া,
আঁশের মান উন্নয়ন এবং বাজারজাতকরণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি কৃষকদের পাট চাষে
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পাটের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য
বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। রজত কুমার রায়-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায়
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত মোট ৬০ জন পাট চাষি এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে
অংশগ্রহণকারী কৃষকরা পাট চাষের বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উন্নতমানের
আঁশ উৎপাদনের কৌশল সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের
পাট চাষে নতুন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করবে। তারা মাঠ পর্যায়ে এসব প্রযুক্তি
প্রয়োগ করে পাটের উৎপাদন ও গুণগত মান বৃদ্ধির মাধ্যমে অধিক লাভবান হওয়ার আশা প্রকাশ
করেন।
আয়োজকরা জানান, সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে পাট খাতের
উন্নয়ন, কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পাটের উৎপাদন সম্প্রসারণে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম
ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বহুমুখী পাটপণ্যের ব্যবহার সম্প্রসারণের
মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।