বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বাঁধার আগে এক নারীকে মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়, মুখে কালি মাখানো হয় এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয় বল অভিযোগ উঠেছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং এলাকায় এক নারীকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার আগে ওই নারীর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়, মুখে কালি মাখানো হয় এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়।
সদর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পালং শাবনুর মার্কেট এলাকায় ১৩ জুন বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, নির্যাতনের শিকার ওই নারীর স্বামী প্রবাসে থাকেন। সম্প্রতি ওই নারী স্থানীয় এক দপ্তরীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। তারা আরও জানান, স্বামীর পাঠানো ৮ লাখ টাকা ওই নারী নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে ওই দপ্তরীকে ধার দিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা ধার নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে দপ্তরীর মেয়ে কৌশলে ওই নারীকে তাদের বাড়িতে ডেকে নেয়। পরে পরিকল্পিতভাবে লোকজন জড়ো করে তাকে বিভিন্ন অপবাদ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এরপর তার মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করা হয়, মুখে কালি মাখানো হয়, গলায় জুতার মালা পরিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়।
এ ছাড়া, নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে টাকা পাওনার বিষয়টি অস্বীকার করতে বাধ্য করা হয় এবং সেই বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
পরে স্থানীয় কয়েকজন জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, নির্যাতনের শিকার নারীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে দ্রুত শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নির্যাতনের শিকার নারী গণমাধ্যমকে বলেন, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিভিন্ন সময়ে আমার কাছ থেকে মোট ৮ লাখ টাকা ধার নেওয়া হয়। পরে আমাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু আমার দুটি সন্তান থাকায় আমি রাজি হইনি। একপর্যায়ে বসতভিটা ছেড়ে ঢাকায় চলে যেতে বাধ্য হই।
তিনি দাবি করেন, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করে আমার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাত দেখানো হয়। এক সপ্তাহ আগে আমি টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিলে তারা ক্ষুব্ধ হয়। পরে ঢাকা থেকে ফিরে আসার পর দপ্তরীর স্ত্রী ও মেয়ে স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে আমাকে মারধর করে।
তিনি আরও বলেন, আমার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে, মুখে কালি মাখানো হয়েছে এবং আমাকে বেঁধে রাখা হয়েছে। পরে আমাকে মাদক ব্যবসায়ী বলেও অপবাদ দেওয়া হয়েছে। আমি মাদক বিক্রি করি কি না, তা পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। আমি এ ঘটনায় মামলা করব।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দপ্তরীর মেয়ে। তিনি বলেন, ওই নারী আমার বাবাকে উত্ত্যক্ত করতেন এবং আমাদের সংসারে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতেন।
তার দাবি, ওই নারী এলাকায় মাদক বিক্রি করেন। শনিবার মাদক বিক্রির সময় স্থানীয় কয়েকজন নারী তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরপর ক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আমাদের কাছে তার কোনো টাকা পাওনা নেই। নিজের অপকর্ম আড়াল করতেই তিনি মিথ্যা অভিযোগ করছেন।
এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, নির্যাতনের শিকার ওই নারীর সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন নারীর টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল বলে জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন, এর জের ধরে কয়েকজন নারী তাকে মারধর করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। তিনি আইনগত পদক্ষেপ নিতে চাইলে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।