× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশি

‘খাইতে দেয় নাই, ১৬ জনের মধ্যে ৪ জন বাঁইচা আছি’

মনিরুজ্জামান বাবলু, চাঁদপুর

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে

রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের মইনুদ্দিনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার শেষবার কথা বলেন মা রানু বেগম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের মইনুদ্দিনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার শেষবার কথা বলেন মা রানু বেগম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

“মাটির নিচে বাঙ্কারে ৪-৫ দিন বন্ধ করে রাখছে। খাইতে দেয় নাই। নির্যাতন করছে। প্রতিদিনই মারপিট করছে। যুদ্ধে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। ৩-৪ দিনের ভেতরে ৫ জন, ৫ জন করে নিয়ে গেছে। অনেকেই মারা গেছে। ১৬ জনের মধ্যে শুধু আমরা চারজন বাঁইচা আছি।”

কথাগুলো দালালচক্রের খপ্পরে পরে রাশিয়ায় যাওয়া কয়েকজন বাংলাদেশির। সিকিউরিটি গার্ডের কাজে রাশিয়া গেলেও তারা এখন যুদ্ধক্ষেত্রে।

১৬ জনের মধ্যে বেঁচে থাকা ৪ বাংলাদেশি হলেন, জামালপুরের ভুক্তভোগী আরমান হোসেন। রাজবাড়ীর আমির হোসেন সোহেল, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের ১৬ নম্বর রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম কাউনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মইনুদ্দিন ও অন্য একজনের নাম পলাশ।

মাঈনুদ্দিন বলেন, “কোম্পানির তিন বছরের কন্ট্রাক্ট। কোম্পানি এখানে এক বছরের কন্ট্রাক্ট করছে। এক বছর পরে এখান থেকে আবার নিয়ে যাইবো।”

মাঈনুদ্দিনের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় কান্নার রোল পড়েছে। শোক সইতে না পেরে তার বাবা মারা গেছেন।

মাঈনুদ্দিনকে দেশে ফেরাতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন পরিবার ও এলাকাবাসী।

মাঈনুদ্দিনের মা রানু বেগম বলেন, “আমার ছেলে মাইনুদ্দিন রে বিদেশ পাঠাইছি ঋণগ্রস্ত কইরা। এরপর ওরা সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে পালাইছে। তখন আমি এইভাবে কি কইরাম? আমি যেইভাবে হোক আমার এই ছেলে আইনা দেক। আমি এগুলোই চাই। আর কিছুই চাই না।”

তার স্ত্রী হালিমা আক্তার লিপি বলেন, “শেষ কথা হয়েছে ১১ তারিখে। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘যদি পারো আমাকে বাঁচাও, এখান থেকে উদ্ধার করে নেও। নাহলে আমাকে আর পাবা না’।”

তিনি বলেন, “আমি সরকারের কাছে আবেদন করতাছি আমার স্বামীকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিক, আমার সন্তানের কাছে ফিরিয়ে দিক। আমি আর কিছু চাই না।”

মাঈনুদ্দিনের ভাই জহির উদ্দিন বলেন, “দালাল বাড়ি হলো হাইমচরে। তার বাড়ি ছোচ লক্ষীপুর মাঝি বাড়ি। নাম সিরাজ। প্রথমে আমার ভাই টাকা দিছে সার্বিয়ার জন্য। এক বছর ঘুরাইছে। পরে কইছে রাশিয়ায় ভালো হবে। জোরপূর্বক আমার ভাইয়েরে নিছে। আমি সরকারে কাছে এটার বিচার চাই।”

পরিবারে লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পাশাপাশি মাঈনুদ্দিনকে দেশে ফেরানোর সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ূয়া বলেন, “মাইনুদ্দিন দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন। পরিবারকে বলেছি এটা আবেদন করার জন্য। উপজেলা পরিষদের তরফে আমরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিব। আশা করছি ওনাকে আমরা খুব দ্রুতই ব্যাক করে আনতে পারব। এছাড়া দালাল চক্রের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে। আশা করছি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দালালচক্রকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে।”

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা